এক্সেভেটর (খননযন্ত্র)-এর অভাব দেখিয়ে দিনাজপুর পৌরসভার গোলাপবাগ এলাকার দেড় হাজার পরিবারের ৫ হাজার মানুষকে তিন মাসেরও বেশী সময় ধরে পানি বন্দী অবস্থায় রেখেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রথম শ্রেনীর এই পৌরসভায় বসবাস করেও ভরা শুস্ক মৌসুমেও ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে ওই এলাকার মানুষ।

খোজ নিয়ে জানাযায়, দিনাজপুর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের সুইহারীর পশ্চিম এবং রামনগরের পূর্ব সীমান্তবর্তী ড্রেন ও রাস্তাটি পিটিআই মোড় হতে লেবুর মোড় হয়ে সর্দারপাড়ার ঘাঘড়া পর্যন্ত দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনটি ৬-৭ ফিট গভীর হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আবর্জনায় ভর্তি হয়ে হয়ে গেছে ড্রেনটি। ড্রেনের বিষাক্ত পানি নিস্কাশন না হওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা ছাড়াও রাস্তায় পানি উঠে এসেছে। সেই সব ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি এখন মানুষের বসতবাড়ীকে প্রবেশ করেছে। রাস্তার উপর পানি ও এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ীতে পানি ঢুকে যাওয়ায় গোটা এলাকার মানুষ চরম দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে।

সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারনে রামনগর, গোলাপবাগ, সুইহারী সরদার পাড়া, পিটিআই মোড়,লেবুর মোড়সহ আশ পাশের এলাকার রাস্তার দুপাশে প্রায় পনেরশ’র অধিক বাসা বাড়ীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য কোন রিক্সা, অটোরিক্সা পাওয়া যায় না । পায়ে হেঁটে পথচারীদের ড্রেনের নোংরা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। এলাকায় মানুষের মাঝে ঝড়িয়ে পড়ছে চর্ম রোগসহ মশাবাহিত রোগ জীবানু। স্কুল-কলেজ গামী ছাত্র ছাত্রীদের জুতা মুজা খুলে নংরা পানি মাড়ীয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। যতদুর পর্যন্ত পরিস্কার পানি না পায় ততদুর পর্যন্ত তাদেরকে জুতা সেন্ডেল হাতে নিয়ে যেতে হয়।

ওই এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন জানালেন, তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কথা। তিনি জানান, ড্রেনের পানি উপচে প্রথমে রাস্তায় উঠে। এখন সেই ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি বাড়ীতেও প্রবেশ করেছে। ফলে চরম দুর্গন্ধ আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাড়ী থেকে বের হওয়া তো দুরের কথা বাড়ীর মধ্যে বসবাস করা দুর্বিসহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, এতে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ দেখা দিচ্ছে।

একই এলাকার বাসিন্দা লাইজু আক্তার জানালেন, বন্যা আসল, আবার চলে গেল, কিন্তু আমরা জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পেলামনা। আমাদের শিশু সন্তান নিয়ে বিপদে আছি। কখন কি হয়। শিশুদেরকে সব সময় চোখে চোখে রাখতে হয়। তিনি জানান, এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষকে বার বার জানিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।

এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েও কাজ না হওয়ায় দিনাজপুর শহরের পিটিআই মোড় হয়ে সরদারপাড়ার ঘাঘড়া পর্যন্ত ড্রেনের জলাবদ্ধতা দুর করতে বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত লিখিত স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে এ ব্যাপারে দিনাজপুর পৌর মেয়রসহ স্থানীয় কাউন্সিলরদের দীর্ঘদিন যাবত একাধিকবার দৃষ্টি আকর্ষন করেও কোনরকম সুরাহা হয়নি।

তাই বিষয়টি সুদৃষ্টি বিবেচনা করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে ও জনস্বাস্থ্যের কল্যাণে অতি জরুরী ইস্যু হিসেবে পিটিআই প্রাচীরের দক্ষিণ পাশর্^ হতে লেবুর মোড় হয়ে সরদারপাড়ার ঘাঘড়া পর্যন্ত ড্রেনের জলাবদ্ধতা এবং রাস্তা সংস্কার করতে জেলা প্রশাসকের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, জলাবদ্ধতা দুর করতে প্রথমেই ড্রেনটি পরিস্কার করা প্রয়োজন। কিন্তু ড্রেন পরিস্কার করার জন্য এক্সেভেটর (খননযন্ত্র) পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, এক্সেভেটর খোজা হচ্ছে। এক্সেভেটর পেলেই ড্রেনটি পরিস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে। তিন মাসেও এক্সেভেটর পাওয়া যায়নি কেন এবং কবে নাগাদ এটি পরিস্কার করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি পরিস্কার করে জলাবদ্ধতা থেকে এলাকাবাসীকে মুক্ত করা হবে বলে আশা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য