আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : ঢাকার সঙ্গে লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থল বন্দর পর্যন্ত নতুন করে ৯০ কিলোমিটার ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ রেলপথটি চালু হলে বুড়িমারী স্থল বন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিশাল বিপ্লবসহ উওর অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থারও দ্রুত উন্নতি ঘটবে।

নতুন এই রেলপথে রাজধানীর সাথে উত্তর অঞ্চলের ১১২ কিলোমিটারের রেলপথের দূরত্ব কমে যাবে। ৩ ঘণ্টা কমে যাবে ভ্রমণ সময়ও। এ প্রকল্পটিকে দেখা হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি চাবিকাঠি হিসাবে। ভারত সরকারের নতুন করে ঋণ সহায়তায় নিশ্চিত হয়েছে প্রকল্পটি।

ফলে উদ্যোগটি বন্ধ থাকার অনেক দিন পর আবারো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। যে কারণে এ প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে খুব শীঘ্রই। রেলপথটি চলতি বছর থেকে আগামী ২০২২ সালের মধ্যেই নির্মিত হবে। সূত্র মতে, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সরাসরি কোনো রেল পথে যোগাযোগ নেই।

ফলে লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো সান্তাহার ও ঈশ্বরদী হয়ে ১৮০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করছে। এতে অতিরিক্ত ৩ ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। অথচ বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ হলে স্বল্প সময়েই যাতায়াত সম্ভব। এতে সময় ৩ ঘণ্টা কম লাগবে। সরাসরি ঢাকা থেকেই বগুড়া হয়ে লালমনিরহাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যাবে।

তখন আর ঢাকা থেকে পাবনা-ঈশ্বরদী হয়ে উত্তরবঙ্গের কোনো জেলায় যাওয়ায় প্রয়োজন হবে না। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে উওর অঞ্চলের মানুষ বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের দাবি করে আসছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা হয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রেলপথের দূরত্ব কমে যাবে। জানা গেছে, এই রুট চালু হলে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও বগুড়া থেকে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় আসা অনেক সহজ হবে। লাভবান হবে লালমনিরহাট জেলাসহ পুরো উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা। প্রকল্পটি শুধু বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

এটি উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি চাবিকাঠি। আর এটি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের ভ্রমণকারীদের সময় ও পথ কমে আসার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক অবস্থারও দ্রুত উন্নতি হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত সরাসরি নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৯০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ করবে। এর মধ্যে মেইন লাইন ৭৯ দশমিক ৩০ কিলোমিটার এবং লুপ লাইন ১১ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার। প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হবে মোট ৫ হাজার ২ শত ৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ রয়েছে ২ হাজার ৬ শত ৬২ কোটি টাকা। রেলপথটি চলতি বছর থেকে আগামী ২০২২ সালের মধ্যেই নির্মিত হবে। রেল লাইনের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ট্র্যাকওয়ার্কস, বাঁধ, স্টেশন বিল্ডিং, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ।

লালমনিরহাটের স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন জানান, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শুধু রেলপথ কমবে না। এ প্রকল্প উওর অঞ্চলে একটি বিল্পব ঘটবে। পাশাপাশি লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থল বন্দরে আমদানী-রফতানী ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এটি ছিল উওর অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই দাবি বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য