আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ ঘুষের টাকা না দেয়ায় জীবিত শিক্ষককে মৃত দেখিয়ে একই পদে নতুন করে লোক নিয়োগের পায়তারাসহ সুন্দরগঞ্জের হামিদা খাতুন মাধ্যমিক ভকেশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির ভূয়া সভাপতির সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিকার দাবিতে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও প্রেসক্লাব সম্মুখস্থ সড়কে এক মানববন্ধনের কর্মসূচী পালন করে।

মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সাহানা আকতার এবং তার স্বামী আমিনুল ইসলাম মতিয়ার সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। ফলে শিক্ষার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কোন জমি দান না করেই সভাপতি আমিনুল ইসলাম মতিয়ার উক্ত প্রতিষ্ঠানটি তার মা হামিদা খাতুনের নামে নামকরণ করেন। এছাড়া একটি ভূয়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে প্রধান শিক্ষক ও উক্ত সভাপতি যৌথভাবে দু’দফায় প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে গ্রহণ করে। পরে সমুদয় টাকা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার না করে আত্মসাৎ করা হয়।

এরমধ্যে শুধুমাত্র পশ্চিম ছাপড়হাটি গ্রামের আনারুল ইসলামের কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দান করে। পরে ২০১৭ সালে উক্ত আনারুল ইসলামের নাম এমপিওভূক্ত হয় এবং তার নামে সরকারি বেতন বরাদ্দ হয়। বেতন ছাড় করার জন্য উক্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি পুনরায় তার কাছে ৬ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করে। উক্ত টাকা পরিশোধ না করায় তাকে মৃত দেখিয়ে ওই পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা শুরু করে। এদিকে জীবিত উক্ত শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করায় এখন পর্যন্ত তিনি কোন বেতন পাচ্ছেন না বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। একই কায়দায় অতিরিক্ত ঘুষের টাকা না দেয়ায় সিদ্দিকুর রহমান এমপিওভূক্ত হওয়া সত্ত্বেও তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত ৬ আগষ্ট অভিযোগ উক্ত সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের ১২ দফা দুর্নীতির খতিয়ানসহ একটি অভিযোগ শিক্ষক কর্মচারী স্বাক্ষরিত দুর্নীতি দমন কমিশন রংপুর অঞ্চলের পরিচালক বরাবরে প্রতিকার দাবি করে দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মো. সিদ্দিকুর রহমান, আনারুল ইসলাম, কামরুজ্জামান আকন্দ, আব্দুল আজিজ, মো. আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির জেলা যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আহাদ বকুল প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য