আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার বাফার সার গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার চৌধুরীর বিরুদ্ধে সার পরিবহনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি কতিপয় ডিলারের সঙ্গে যোগসাজসে গুদামে সার না এনে সরাসরি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু করেছে শ্রমিকরা। ফলে গুদাম চত্বরে অসংখ্য সার বোঝাই ট্রাক আটকে আছে।

গাইবান্ধা সরকারি বাফার সার গুদাম সূত্র জানায়, জেলায় বার্ষিক ইউরিয়া সারের চাহিদা ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। নিয়ম অনুযায়ী, এই সার সিলেট, চট্টগ্রাম ও বাঘাবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকযোগে গাইবান্ধা শহরের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অবস্থিত বাফার সার গুদামে আনা হয়। এখানে স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে ট্রাক থেকে সার নামিয়ে গুদামে মজুত রাখা হয়।

পরে গুদাম থেকে তালিকাভুক্ত জেলার ১১১ জন ডিলার সার উত্তোলন করে থাকেন। কিন্তু গুদামের শ্রমিকদের অভিযোগ, এই গুদামে ট্রাক থেকে সার লোড আনলোড করে স্থানীয় প্রায় ৬০ জন শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু গত একবছর ধরে গাইবান্ধা বাফার গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার চৌধুরী কতিপয় ডিলারের সঙ্গে যোগসাজস করে গুদামে সার না এনে সরাসরি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন।

ফলে স্থানীয় শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ট্রাক চালক শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে ভাড়া থেকে।

এদিকে সরাসরি ডিলারদের কাছে সার পাঠানোর প্রতিবাদে স্থানীয় শ্রমিকরা মঙ্গলবার ভোর থেকে ধর্মঘট শুরু করেছে। ফলে গাইবান্ধা সার গুদাম চত্বরে অন্তত ১৫টি সার বোঝাই ট্রাক আটকে আছে। এ কারণে দূরের ট্রাক চালক-শ্রমিকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয় ট্রাক চালক শ্রমিকরাও ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জেলা ট্রাক-ট্যাংকলড়ি ও কাভার্ড ভ্যান পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল করিম জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য