ইয়েমেনের হাজ্জা শহরের আবাসিক এলাকায় সৌদি আরবের নতুন করে চালানো ভয়াবহ বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে তেহরান বলেছে, ইয়েমেনের আবাসিক এলাকাগুলোতে আগ্রাসন বেড়ে যাওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে, দেশটিতে যুদ্ধ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে সৌদি আরব।

বুধবার ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হাজ্জা শহরের কয়েকটি আবাসিক এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণ করে সৌদি জঙ্গিবিমান। এতে অন্তত ৬০ ব্যক্তি হতাহত হয় যাদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি ইয়েমেনে হতাহতদের পরিবারবর্গকে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ হত্যা করেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে রিয়াদ। এ কারণেই রাজতান্ত্রিক দেশটি সমুদ্র, স্থল ও আকাশপথে ইয়েমেনের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে; এমনকি মানবিক ত্রাণও পৌঁছাতে দিচ্ছে না।

ইয়েমেনে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা একটানা সৌদি বোমাবর্ষণ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতারও সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও উদ্ধারকারী সংস্থাকে ইয়েমেনের জনগণের সাহায্যে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এটি মানবিকতা ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৌদি পাশবিক আগ্রাসন থেকে ইয়েমেনের নিরপরাধ জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করার জন্য জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রভাবশালী দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আমেরিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরো কিছু দেশের সহযোগিতা নিয়ে সৌদি আরব ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে দেশটির ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে রিয়াদ। গত প্রায় আড়াই বছরের সৌদি আগ্রাসনে ইয়েমেনের অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত এবং আরো বহু লোক আহত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য