সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে সমঝোতা চুক্তি ভঙ্গ করে বিটিসিএল ব্রডব্র্যান্ড লাইনের অপটিক্যাল ফাইবার ভু-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে স্থাপন করেছে। ফলে সড়ক বর্ধিতকরণের কাজ করতে গিয়ে ক্যাবলগুলো কাটা পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন লাখো মানুষ। পীরগঞ্জে এ পর্যন্ত দু’দফায় ক্যাবল কাটা পড়ে প্রায় ৪ মাস ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বিটিসিএল’র হাত থেকে সড়ক-মহাসড়ক খনন ঠেকাতে ইতিপূর্বে রংপুর সওজ জিডিও করেছে। সড়কের রাইট অব ওয়ে দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করার ব্যাপারে সমঝোতা স্মারক সম্পাদিত হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ‘উপজেলা পর্যায়ে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় ক্ষতিপুরণ ছাড়াই মহাসড়কের পার্শ্ব দিয়ে ভু-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের লক্ষ্যে সওজ অধিদপ্তরের সাথে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানী লিঃ (বিটিসিএল) সমঝোতা চুক্তি করে।

চুক্তিতে কয়েকটি শর্তের মধ্যে রয়েছে ১. সড়ক বাঁধের টো লেবেলে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল লাইন খনন করা যাবে না। ২. সড়কের ‘রাইট অব ওয়ে’ এর শেষ প্রান্ত সীমার ১ ফুট ভিতরে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করতে হবে। কিন্তু বিধি উপেক্ষা করে গত বছর মেসার্স হামিদা ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কের স্লোপ/হাট সোল্ডার খনন করে ব্রডব্র্যান্ড লাইনের অপটিক্যাল ফাইবার ভু-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে স্থাপন করে পীরগঞ্জ পৌরসভা ও পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়।

গাইবান্ধা থেকে পীরগঞ্জ হয়ে দিনাজপুরগামী সড়কটি (সাদুল্লাপুর-পীরগঞ্জ-নবাবগঞ্জ) রংপুর সওজ’র হওয়ায় সেটি বর্তমানে উভয়পাশের্^ বর্ধিতকরণ ও সংস্কার কাজ চলছে। বর্নিত সড়কের সংস্কার ও বর্ধিতকরণের কাজ শুরু হলে উপজেলার খালাশপীরহাটে ড্রেন নির্মানের সময় সোনালী ব্যাংকের পাশে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারী অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ কাটা পড়ে। ফলে মদনখালী, চতরা, টুকুরিয়া, কাবিলপুর ও বড়আলমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৩ মাস ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। রায়পুর ইউনিয়নে ইন্টারনেটের মুল কেন্দ্র করে ওইসব ইউনিয়নের সংযোগ দেয়া হয়েছে। ফলে রায়পুরের পশ্চিমে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেই ৫ ইউনিয়নের ইন্টারনেট সেবা হয়ে যায়।

ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে স্থাপিত ই-তথ্য কেন্দ্র থেকে ইন্টানেটের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যু সনদপত্র গ্রহন, জমির পর্চার (এস.এ, সি.এস, আর.এস) আবেদন, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ও ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করাসহ দেশ-বিদেশে স্কাইপে কথা বলা, মদনখালী ও চতরা ইউপিতে মধুমতি ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা (একাউন্ট খোলা, নগদ টাকা জমাও উত্তোলন, ফান্ড ট্রান্সফার), বিদ্যুৎ বিল প্রদানসহ নানানবিধ সেবা প্রদান সম্পুর্ন রুপে বন্ধ ছিল। ২য় দফায় গত ১ সেপ্টেম্বর সড়কটির ফলিরবিল বাজারে ড্রেন নির্মানের জন্য খননের সময় ৪টি স্থানে অপটিক্যাল ফাইবার কাটা পড়লে প্রায় ১ মাস ইন্টারনেট সেবা থেকে উল্লেখিত ইউনিয়নগুলোর মানুষ বঞ্চিত ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে সংযোগ মেরামত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আবারো সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে অন্য ইউনিয়নেও সেবা প্রদান বন্ধ হয়ে যাবে । এ ব্যাপারে মদনখালী ইউনিয়নের ই-সার্ভিস সেন্টারের উদ্যোক্তা রেজাউল জানায়, ইন্টারনেট সংযোগ দু’দফায় বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারন মানুষ সেবা নিতে পারেনি। প্রতিদিন আমার কাছে প্রায় ২’শ মানুষ সেবা নিতে আসে। অপরদিকে বিগত ২০১৫ সালের জুলাই মাসে সমঝোতা স্মারক অমান্য করে রংপুরের বিটিসিএল’র ঠিকাদাররা পীরগঞ্জ ও কাউনিয়া উপজেলায় রংপুর থেকে ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে মহাসড়কের স্লোপ বা হাট সোল্ডার খনন করে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করে। এ ঘটনায় রংপুর সওজ’র তৎকালীন কর্তৃপক্ষ রংপুর-ঢাকা মহাসড়কটি রক্ষায় রংপুর বিটিসিএলকে লিখিত জানিয়েছে।

এক পর্যায়ে রংপুর-বড়বাড়ী-কুড়িগ্রাম সড়কের কাউনিয়া হতে নব্দীগঞ্জ পর্যন্ত ১০/১২ কিমি সড়কের হাট সোল্ডার কেটে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করায় রংপুর সওজ কোতয়ালী থানায় জিডি (১১৭৬) করে। অপরদিকে রংপুর থেকে পীরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কি.মি মহাসড়ক একই পদ্ধতিতে মহাসড়কটি খনন করে ক্যাবল স্থাপন করেছে। ওই সময় রংপুর সওজ কর্তৃপক্ষ সড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করা হলে অপটিক্যাল ফাইবার ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এজন্য বিটিসিএলকে নিজ খরচে ক্যাবল সরিয়ে নিতে বলা হলেও বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেনি।

এ ব্যাপারে রংপুর সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম খান বলেন, সড়ক-মহাসড়ক বর্ধিতকরণের কাজ ও রক্ষায় এবং সমঝোতা চুক্তি মেনে কাজ করার জন্য রংপুর বিটিসিএল কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও তারা বিষয়টি আমলেই নিচ্ছে না। এখন আমাদের পুরোদমে সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে এবং বাঁধাগ্রস্থও হচ্ছে। এদিকে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় উল্টো বিটিসিএল’র ক্ষতিগ্রস্থ ঠিকাদার আমাদের কাছে মৌখিকভাবে ক্ষতিপুরন চাচ্ছে। তিনি আরও জানান,আবারো তাদেরকে ভুগর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার সরিয়ে নেয়ার জন্য ২/১ দিনের মধ্যেই চিঠি দেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য