01 17 19

বৃহস্পতিবার, ১৭ই জানুয়ারী, ২০১৯ ইং | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Home - দিনাজপুর - বিরলে নারীরা কেঁচো সার তৈরী করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বি হয়ে উঠছে

বিরলে নারীরা কেঁচো সার তৈরী করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বি হয়ে উঠছে

সুবল রায়, বিরল থেকেঃ নারীদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বি করতে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় দঃ রামচন্দ্রপুর গ্রামে তৈরী হচ্ছে কেঁচো সার। এই সার তৈরী করে রামচন্দ্রপুর গ্রামে নারীরা মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় করছে। এতে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশী সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এসেছে। কেঁচো সার তৈরী করা লাভ জনত দেখে আশেপাশের অনেক নারী এই কাজে উৎসাহিত হচ্ছে।

App DinajpurNews Gif

দঃ রামচন্দ্রপুর গ্রামের লিপা রানী নিজের উদ্যোগে একটি কেঁচো সার তৈরীর উদ্যোগ নেন। লিপা রানী বিরল কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষন নেওয়ার পর ঋণের মাধ্যমে নিজ এলাকায় গড়ে তোলেন একটি কেঁচো সার তৈরীর খামার। সেখানে নারীরা কাজ করে তারা প্রতি মাসে আয় করে প্রায় ৪ হাজার টাকা।

উদ্যোগতা লিপা রানী জানান, তার প্রতি মাসে খরচ বাদ দিয়ে আয় হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো। বাড়ীর সকল কাজ কর্ম করে অবসর সময় কেঁচো সার তৈরী করা যায়। এতে যেমন বাড়তি আয় হয় তেমনী নারীদের সংসারে ফিরে আসে স্বচ্ছলতা। এতে নারীদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বিকাশ ঘটে। লিপা রানীর একটি উদ্যেশ্য নারীরা যেন স্বামীর সংসারে সাহায্য করার মতো ক্ষমতা অর্জন করে।

বাড়ীর সন্তানদের লেখা-পড়ার খরচ, চিকিৎসার খরচ, কাপড়-চোপড় ক্রয় করার জন্য স্বামীর উপর চাপ না দিয়ে বাড়ীর নারীরা এই খরচ নিজেই চালানোর ক্ষমতা অর্জন করে। তিনি আরো বলেন, সরকার থেকে বিনা সুদে ঋণ পেলে তিনি আরো বড় আকারের কেঁচো সার তৈরীর খামার গড়তে পারবে। যেখানে শত শত নারীরা কাজ করে তাদের ভাগ্য উন্নয়ন ঘটাতে পারবে।

কেঁচো সার তৈরী খামারের নারী কর্মীরা এখানে এসে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা সংসারে বাড়তি আয় দিতে পারছেন। সন্তানদের লেখা-পড়া খরজের জন্য বড় ছেলে কিংবা স্বামীর কাছে টাকা চাইতে হয়না। নিজের আয়ের টাকা দিয়ে সন্তানদের অনেক দুর পর্যন্ত লেখা পড়া করানোর স্বপ্ন দেখেন এখানকার নারী কর্মীরা। ধীরে ধীরে আশে-পাশের অনেক নারীরাই এখানে কাজের জন্য আসছেন।

সরকারী সহায়তা পেলে রামচন্দ্রপুর সহ আশে-পাশের গ্রামে ধারাবাহিক ভাবে কেঁচো সার তৈরীর খামার গড়ে উঠবে। অত্যান্ত লাভ জনক হওয়ায় কেঁচো সার তৈরীর খামার গড়ে তোলার জন্য অনেকেই পথ খুজছেন। কিন্তু এলাকার মানুষ বিশেষ করে নারীরা অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হওয়ায় তা পেরে উঠায় সম্ভব হচ্ছেনা। কেঁচো সার ব্যবহার করে আলু ও নানা শাখ-সবজী দ্বীগুন ফলন দিচ্ছে।

একারণে দিন দিন কেঁচো সারের চাহিদা বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে কমে গেছে রাসায়নিক সারের চাহিদা। রামচন্দ্রপুর এলাকার অনেক নারী এখন স্ববলম্বি। তারা জানায় কেঁচো সার তৈরী করে মাসে কমপক্ষে ৪ হাজার টাকা আয় করতে পারে। এদিয়ে এরা এখন অনেকটাই স্বাবলম্বি। এই দিয়ে নারীদের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে বলে জানান নারীরা।

বিরল এলাকার নারীদের ভাগ্য উন্নয়ন ও কৃষি ক্ষেত্রে আরো উন্নয়নের জন্য কাজ করে জাচ্ছেন বিরল উপজেলার কৃষি সম্প্রাসারণ কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম। তিনি প্রথমে ৫জন নারীকে কেঁচো সার তৈরীর প্রশিক্ষন দেন। তার প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিরল এলাকায় কেঁচো সারের সাথে মানুষের পরিচিতি ঘটে। কেঁচো সার তৈরীর মাধ্যমে এলাকার অনেক নারীরা এখন অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষমতা অর্জন করেছে। এ দেখে এলাকার নারীরা প্রশিক্ষন নেওয়ার জন্য দলে দলে ছুটে আসছে তার দপ্তরে। তিনি যথা সাধ্য তাদের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং কেঁচো সার তৈরীতে আগ্রহী করে তুলছেন।

তিনি জানান, যাদের প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে তারা এখন অন্যদের প্রশিক্ষন দিতে পারবে। এখানে প্রশিক্ষন নিয়েছেন মাত্র ৫ জন। কিন্তু বিরল উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে কেঁচো সার তৈরী করে প্রায় ১শত জনের উপরে। পারস্পরিক সহযোগীতাই এখন রামচন্দ্রপুর গ্রাম সহ আশ-পাশ এলাকায় কেঁচো সার তৈরী ছড়িয়ে পড়ছে। তার ধারা বাহিকতায় ধীরে ধীরে নারীরা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের আন্তরিক সহায়তা পেলে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে গড়ে উঠবে কেঁচো সার তৈরীর খামার। এতে শুধু নারীরাই অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বি হবেনা, কৃষি ক্ষেত্র থেকে কমে যাবে রাসায়নিক সারের চাহিদা। বাড়তি খরচ করে সরকারকে বিদেশ থেকে রাসায়নিক সার কিনে আনতে হবেনা। তাই কেঁচো সার তৈরীতে গুরুপ্ত দিয়ে কৃষি বিভাগ গড়ে তুলবে খামার। আর কৃষকদের আগ্রহী করতে কৃষি ঋণসহ প্রশিক্ষনের প্রসার ঘটাবে কৃষি বিভাগ। এমনি প্রত্যাশা করেন বিরল উপজেলার কৃষকরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য