মোঃ লিহাজ উদ্দীন মানিক, বোদা (পঞ্চগড়) থেকেঃ পঞ্চগড়ের বোদায় দিনে গরম, রাতে শীত, শীতজনিত রোগের প্রভাব বাড়ছে। দিনে তীব্র রোদ্র আর গরমের রেশ থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়তে থাকে শীতের তীব্রতা। হঠাৎ শীতের আগমনে হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বোদা উপজেলা সহ পঞ্চগড় জেলা হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় দেশের অন্য যে কোনো এলাকার তুলনায় বরাবরই এখানে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়।

এ জন্য মধ্যবৃত্ত আর নিম্ন মধ্যবৃত্ত পরিবারে শুরু হয়েছে কাঁথা-কম্বল আর শীতের কাপড় দিয়ে শীত নিবারণের আগাম প্রস্তুতি। তবে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে শীত আসলে কষ্টের শেষ নেই। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে তাদের কোনো প্রস্তুতি নেই। এই এলাকায় সাধারণত নভেম্বরের শেষ এবং ডিসেম্বরের শুরুর দিকে শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে নভেম্বরের শুরু থেকেই দেখা দিয়েছে শীতের প্রকোপ। কুয়াশা তেমন না থাকলেও উত্তরের ঠান্ডা হাওয়ায় বেড়ে যায় শীতের তীব্রতা।

বেলা ১০টা নাগাদ শীতের রেশ থাকে। শীত থেকে বাঁচতে বিকেলে মানুষজনকে গরম কাপড় পরতে দেখা যায়। তবে দিনের আবহাওয়ায় প্রখর রোদের সঙ্গে প্রচন্ড গরমে ঘাম ঝরছে খেটে খাওয়া মানুষের। দিনে গরম আর রাতে শীত। ঠান্ডা আর গরমে এই বৈরী আবহাওয়া বাড়ছে রোগ বালাই। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সর্দি, কাশি, ডায়েরিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত নানা রোগ। বাড়তি সতর্কতা নিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। সর্দি, কাশি লেগে থাকছে।

সপ্তাহজুড়ে বোদা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নবজাতকসহ শতাধিক শিশু শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাজিউর রহমান রাজু জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় এমনিতেই নানা সমস্যা দেখা দেয়। শীতের শুরুতে বিশেষ করে বৃদ্ধ এবং শিশুদের শীতজনিত রোগের হার বেড়ে যায়। বর্তমানে দিনে বেশ গরম এবং রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে। এ জন্য শিশুরা সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। এ সময় শিশু এবং বয়স্কদের ঠান্ডা লাগানো এবং ধুলাবালু থেকে বিরত রাখতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য