টেক্সাসে গির্জায় ঢুকে গুলি চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যাকারী বন্দুকধারী অস্ত্র কিনতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ভুলে।

ডেভিন কেলি নামের ২৬ বছর বয়সী ওই বন্দুকধারী এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং পারিবারিক সহিংসতার কারণ হওয়াতে সামরিক আদালতে তার বিচার হয়েছিল বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান বাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিজের প্রথম স্ত্রী ও সৎ ছেলেকে মারধর করার দায়ে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত কেলিকে এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু কেলির এ অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যভাণ্ডারে যোগ করেনি বিমান বাহিনী। ফলে বৈধভাবে অস্ত্র কেনার সময় কেলির অতীত অপরাধের কথা জানতে পারেননি অস্ত্র বিক্রেতারা।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী স্বীকার করেছে, তারা ২০১২ সালে কেলির পারিবারিক সহিংসতার অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য সরকারি তথ্যভাণ্ডারে যোগ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির সময় এই তথ্যভাণ্ডার থেকেই ক্রেতাদের অতীত রেকর্ড পরীক্ষা করে থাকেন বৈধ বন্দুক ব্যবসায়ীরা।

গির্জায় হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে কেলি নিজের শ্বাশুড়িকে হুমকি দিয়ে বার্তাও পাঠাতেন বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তারা।

পেন্টাগন জানিয়েছে, ২০১৪ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন কেলি।

খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রয়কারী একটি রিটেল চেইন জানিয়েছে, ২০১৬ সালে একটি বন্দুক কেনার সময় ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষার পাস করে যান কেলি এবং পরের বছর আরেকটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনেন।

ওই বন্দুক দিয়ে রোববার টেক্সাসে তাণ্ডব চালানোর আগ পর্যন্ত কেলির সহিংস অতীতের কোনো তথ্যই সামনে আসেনি। এসেছে ওই ঘটনার একদিন পর। যে ঘটনা টেক্সাসে কোনো একজন বন্দুকধারীর গুলিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবেচেয়ে প্রাণঘাতী পাঁচটি গুলিবর্ষণের ঘটনার একটি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেলিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে, স্পষ্টতই গুলির আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

টেক্সাসের সাদারল্যান্ড স্প্রিংস এলাকার ফার্স্ট ব্যাপটিস্ট গির্জায় তাণ্ডব চালানোর পর পালানোর পথে কেলিকে বাধা দিয়েছিলেন স্থানীয় এক সশস্ত্র ব্যক্তি। কেলিকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছুড়েছিলেন তিনি। তারপরও গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কেলি।

অতি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে ছুটছিলেন তিনি। অপরদিকে স্থানীয় দুই বাসিন্দাও তার পিছু নিয়েছিলেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সময় নিজের বাবাকে ফোন করেছিলেন কেলি; বলেছিলেন, তার শরীরে গুলি লেগেছে এবং তিনি হয়তো বাঁচবেন না। পরে গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ার পর কেলি নিজেকে গুলি করেন এবং মারা যান।

তবে কেলি নিজের গুলির আঘাতে না গোলাগুলিতে মারা গেছেন তা পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য