লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সেদেশের পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী সা’দ হারিরিকে হত্যার কোনো ষড়যন্ত্র উদঘাটন করা যায়নি। হারিরি শনিবার সৌদি আরব সফরে গিয়ে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং প্রাণ বাঁচাতেই তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

লেবাননের সেনাবাহিনী রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যাপক তদন্ত চালিয়েও হারিরিকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা উদ্ধার করতে পারেনি। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সা’দ হারিরির অভিযোগের পর বেশ কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হলেও হত্যা ষড়যন্ত্রের কোনো ঘটনা ধরা পড়েনি।

সা’দ হারিরি তার পদত্যাগের ঘোষণায় লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন। ওই অভিযোগ কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান ও হিজবুল্লাহ।

সা’দ হারিরি পদত্যাগের একমাসেরও কম সময় আগে হিজবুল্লাহর সঙ্গে জোট সরকার গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন।

এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের বরাত দিয়ে একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, সা’দ হারিরি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন না প্রেসিডেন্ট। হারিরি দেশে ফিরে তাকে পদত্যাগের আসল কারণ জানাবেন বলে অপেক্ষা করছেন প্রেসিডেন্ট আউন। তিনি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়াও স্থগিত রেখেছেন।

২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরির ছেলে সা’দ হারিরি। এরপর গত বছর আবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০০৫ সালে রাজধানী বৈরুতে এক ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলায় নিহত হন রফিক হারিরি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য