সিরাজুল ইসলাম বিজয়, তারাগঞ্জ (রংপুর) থেকেঃ রংপুর জেলা তারাগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ন গ্রামঞ্চলে তাবিজ-কবজ,ঝাড়-ফুক,সর্বরোগের সালসা দিয়ে অপচিকিৎসা চলছে হরদম।চিকিৎসক স্বল্পতা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থের অভাব, অসচেতনতার কারনে গ্রামের সহজ সরল মানুষ এ ধরনের অপচিকিৎসা গ্রহন করছে।তারাগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে অনেকেই ছুটছেন স্থানীয় ওঝা-ফকিরসহ সর্বরোগের চিকিৎসকের কাছে।

এধরনের ভন্ড চিকিৎসক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সর্বত্র।উপজেলা কাশিয়া বাড়ি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মন্তাজ কুরিয়া ও বুড়ীর হাট মাদ্রাসার নিজাম হুজুর নামে এক কবিরাজ সয়ার বাড়াপুর গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে আবু রায়হান (১৪) কে সহযোগী হিসাবে কাজ করানোর জন্য নিয়ে গেলে মন্ত্র ভুল করে পাঠ করলে মৃত্যুর মুখে পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।

ভুল চিকিৎসার কারনে পঞ্চায়েত পাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে আরনিকা আক্তার(৭)হাতে পচন ধরে,মন্ডল পাড়া গ্রামের শাহিনুর ইসলামের মেয়ে শারমিনা বেগম(১৮) মানুসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় পরে আছেন।কাজী পাড়া গ্রামের হাসমত আলীর সংসার নরবরে করে রেখেছেন এই সব ভন্ড কবিরাজ।

এছাড়া ৫নং সয়ার ও ৪নং হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের বেশ কিছু ভন্ড কবিরাজ, প্রামানিকপাড়ার রশিদুল ইসলাম, চাল্লিয়াবুড়ীর হাট বাজারের ছপির উদ্দিন মুন্সী, দোলাপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ, আব্দুস সালাম, ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের রসুল মিয়া, মফিজুল ইসলাম, হাজির হাট মন্ডলপাড়ার আব্দুস সালাম, মকবুল হোসেন, বৈদ্যনাথপুর গ্রামের জাদু মিয়া, কুর্শা দোলাপাড়ার বদিউর মুন্সী,জয়বাংলা নারায়ঞ্জন গ্রামের আব্দুস ছামাদ, ছামেদুল ইসলাম, চিলাপাক কাজীপাড়ার ইসমাইল হোসেন, শ্যাখপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম, বাড়াপুর গ্রামের অহিদুল মুন্সী, এখলাছ উদ্দিন, পাঠানপাড়ার পরিবানু, সয়ার চ্যাংপাড়া গ্রামের জিয়াসমিন হাফেজ, নুরুল ইসলাম, মাদারগঞ্জ বাজারের লোকমান আলী, সহ অপচিকিৎসার নামে তারা গ্রাম অঞ্চলের সাধারন মানুষর কাছে এক ধরনের তাবিজ-কবজ বিক্রি করছেন।

এ তাবিজ ব্যবহারে দাম্পত্য জীবনের সমাধান, শত্রু দমন, গ্যাস্টিক, কোমর, বাত ব্যাথা, আলসারসহ নানা রোগের আরোগ্য হয়।হারবাল প্রোডাক্ট আমলকী-ডি, দশমূলারিষ্ট, বলারিষ্ট, মৃতসঞ্জীবনী, অর্জুনারিষ্ট, ডিএক্স, পি,স্কাইনাল, এফালিভ, নিসওয়ান, লিউকোসিন ব্যবহার করেন। রোগ ভেদে ১০০থেকে, ৫০০টাকা পর্যন্ত প্রতিটি তাবিজ বিক্রি করা হয়।

তাবিজ কিনে ফেরার পথে দামোদরপুর গ্রামের খানসাহেব পাড়ার জাহানারা বেগম নামে একজন জানান গ্যাস্টিকের জন্য তিনি এ তাবিজ কিনেছেন। কোন চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে এ তাবিজ কিনছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বোঝেনইতো চিকিৎসকের কাছে গেলে এই টেস্ট সেই টেস্ট করতে দেয়। টেস্ট করানোর টাকাইতো নাই, তারপর চিকিৎসকের ভিজিট, ওষুধের দাম, যাতায়াত খরচসহ অনেক টাকা লাগে। এতো খরচ যোগাতে কষ্ট হয়।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য