আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধা পৌরসভা এলাকায় মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে বাড়ি-ঘর,অফিস-আদালত সেইসাথে বাড়ছে নানা ধরনের যানবাহনও। কিন্তু সেই অনুযায়ী গত বছর পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান নাগরিক সুবিধা বাড়েনি, পরিবর্তন ঘটেনি চলাচলের রাস্তাগুলোর। পৌর এলাকার এবং জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষজনের বিশেষ করে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতে যাতায়াতকারী মানুষজনকে পোহাতে হতো যানজটসহ নানা দুর্ভোগ।

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে মানুষজনের দুর্ভোগ কমাতে সম্প্রতি গাইবান্ধা পৌরসভা ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেসব উদ্যোগের বেশকিছু কাজ ইতোমধ্যে বাস্তবায়নও হচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, পৌর এলাকার স্টেশনের পুর্ব পাশ থেকে পুরাতন জেলখানা, ল’কলেজ কিন্ডারগার্টেনের সামনে থেকে এক নম্বর ট্রাফিক মোড়, পুরাতন জেলখানার পশ্চিম পাশ থেকে পুরাতন ঘাঘট ব্রীজ, শহীদ স্মৃতি সংসদ থেকে গোরস্থান মসজিদ মোড় এবং খানকাহ শরীফ ফুড অফিসের পশ্চিম পাশ থেকে ডিবি রোডের সোনালী ব্যাংক পর্যন্ত পৌরসভার জায়গা দখলমুক্ত করে রাস্তার দু’পাশে প্রশস্ত করা হয়েছে। যার কিছু সুফল ইতোমধ্যে পাচ্ছে পৌরবাসী।

কেননা এসব রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে ও হেঁটে চলাফেরা করেন। দীর্ঘদিন থেকে তারা চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। এছাড়া পুরাতন জেলখানার পাশ থেকে হাজারো মানুষ প্রতিদিন লক্ষ্মীপুর, দাড়িয়াপুর, নলডাঙ্গা, বামনডাঙ্গা, সুন্দরগঞ্জ যাতায়াত করেন। সে কারণে পুরাতন জেলখানার পাশে পাবলিক টয়লেট ও যাত্রী বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। আর শহরের প্রানকেন্দ্র ডিবি রোড ফোরলেন বাস্তবায়ন অবিলম্বে শুরু হবে।

শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য ইতোপূর্বে যেসব ড্রেন নির্মিত হয়েছিল তা অপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল, সেসব সমাধান করতে এখন আবারো নতুন করে অনেক পরিকল্পনা করছে পৌরসভা। শহরের গোডাউন রোড থেকে খানকাহ শরীফ পৌর এলাকা পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে। গোডাউন রোডে আদমজী জুট মিলের পাশ থেকে খানকাহ শরীফ পর্যন্ত ড্রেন নির্মিত হচ্ছে। এ রাস্তাটির দু’পাশে গুরুত্বপূর্ণ অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। ফলে রাস্তাটি প্রশস্ত করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছিল।

গাইবান্ধা পৌর এলাকায় বিনোদন কেন্দ্র বলতে একমাত্র ছিল পৌরপার্ক। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই পৌরপার্কটি মানুষের জন্য অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে শহীদ মিনার ও পৌরপার্কটিকে দৃষ্টি নন্দন করে তুলতে সংস্কার কাজ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া আমাদের গাইবান্ধার পরিত্যক্ত ঘাঘট নদীতে লেক নির্মাণের জন্য টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম এলাকায় মিনিপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এসব কাজ সম্পন্নের মাধ্যমে গাইবান্ধা শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা সম্ভব হবে।

এব্যাপারে পৌর মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, পৌরবাসীরা নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করবার কথা বলেন, রাস্তা বড় করবার কথা বলেন অথচ এসব বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তারপরেও বৃহত্তর স্বার্থে সে সকল বাধা উপেক্ষা করে উন্নয়ন করবার চেষ্টা করছি। গাইবান্ধা পৌরবাসী শীঘ্রই এসব উন্নয়নের সুফল ভোগ করবেন। সুতরাং তিনি এসব উদ্যোগে পৌরবাসীদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

তিনি প্রসঙ্গত উল্লেখ করেন, আওয়ামীলীগ সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী, মানুষের সুখ শান্তিতে বিশ্বাসী। সেজন্য জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি এমপি প্রতিটি মুহুর্ত পৌরসভার কাজকর্মের অগ্রগতির খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন। কিভাবে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন হবে, মানুষের মঙ্গল হবে সেসব বিষয়েও তিনি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় গাাইবান্ধা পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য