বৃহষ্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হামিদুল আলম বিরলের নেহালগ্রামে পুলিশের উপর হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং গ্রামবাসীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আবদুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ আবদুল মজিদ, ধামইর ইউপি চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন, মঙ্গলপুর ইউপি চেয়ারম্যান সেরাজুল ইসলাম, ধামইর ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম চৌধূরী, সাধারণ সম্পাদক মজেন চন্দ্র দেবশর্মা, ইউপি সদস্য আনন্দ চন্দ্র রায় প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, উপজেলার ধামইর ইউপি’র নেহালগ্রামে গত ২৮ অক্টোবর শনিবার দিবাগত রাতে সাদা পোশাকে মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে যায় মঙ্গলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার হাফিজুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল। পুলিশ মাদকের সাথে জড়িতদের না পেয়ে মাদক সেবনকারীদের ব্যবহৃত একটি রিক্সাভ্যান তুলে আনার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী চোর সন্দেহে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে আহত হন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার হাফিজুর রহমান ও কনস্টেবল আলতাফুর রহমান।

এই ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর মঙ্গলপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই তুলশী রায় বাদী হয়ে বিরল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় ৩৫ জন আসামীর নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আসামি করা হয় ৫০/৫৬ জনকে। মামলা নং-৩৭, ধারা-১৪৩/৩৪১/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩০৭/৩৭৯/১১৪/৩৪ দঃবিঃ। আসামিরা সকলেই বিরল উপজেলার ৩নং ধামইর ইউনিয়নের নেহালগ্রাম, হরিশচন্দ্রপুর এবং গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।

গত রোববার থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ আতঙ্কে নেহালগ্রাম, হরিশচন্দ্রপুর এবং গোবিন্দপুর গ্রামের পুরুষরা সব পালিয়ে যায়। যার ফলে ঐ ৩টি গ্রাম পুরুষশুন্য হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশিত হয়। সংবাদ পরিবেশন হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ গ্রামবাসীর সাথে সাক্ষাত করে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানী মেনে নেয়া হবে না জানালে বৃহষ্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার মোঃ হামিদুল আলম সরজমিনে হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নির্দোষীদের কোন প্রকার পুলিশী হয়রানি করা হবে না বলে জানান। সেইসাথে তিনি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে গ্রামবাসীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য