আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মিথ্যা চুরির মামলায় পলাতক রয়েছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার একাধিক ব্যাবসায়ী। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সুকানদিঘী বাজারে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। মিথ্যা মামলাটি উচ্চ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবী তুলে সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য রাখেন ওই বাজারের মুন্না ক্যাবল অপারেট রেজাউল করিম।

লিখিত বক্তব্য রেজাউল করিম বলেন, উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের তেতুঁলিয়া গ্রামের সুলতানুল হকের ছেলে কামরুজ্জামান বুলবুলসহ যৌথ গার্মেন্টসের ব্যবসা করেন রেজাউল করিম। সেই ব্যবসার পাওনা ৫ লাখ টাকা চাওয়ায় রেজাউলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আটকিয়ে ৭ অক্টোবর রাতে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন বুলবুল। পরদিন ওই স্ট্যাম্পটি উদ্ধার করতে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন রেজাউল করিম।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের দোকান দিপা টেলিকমে হামলা চালিয়ে ৩লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও কয়েকটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার দাবি তুলে কালীগঞ্জ থানায় রেজাউলসহ ৫ ব্যবসায়ীকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন বুলবুল। অভিযোগটি তদন্ত না করেই থানা পুলিশ টাকার বিনিময়ে অভিযোগটি ২৮ অক্টোবর নিয়মিত মামলা হিসেবে গন্য করে।

পরদিন পুলিশ আসামীদের ধাওয়া করতে গেলে এলাকাবাসী জানতে পারেন মিথ্যা চুরির মামলার ঘটনা। এটি উচ্চ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী তুলেন এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সুকানদিঘী বাজারের ইজারাদার আব্দুল জলিল, সাবেক ইউপি সদস্য বদিয়ার রহমান, সাজানো চুরির দোকান ঘর মালিক খন্দকার নাজমুল আলম পলাশ।

সাবেক ইউপি সদস্য বদিয়ার ও ইজারাদার জানান, গত এক বছরে এ বাজারে হামলা তো দুরের কথা কোন চুরির ঘটনাও ঘটে নি। পুলিশ তদন্ত ছাড়াই এ মামলা নিয়ে আসামীদের পাকড়াও করছেন। তারা সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

সাজানো চুরির মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক(এসআই) রাজু আহম্মেদ জানান, এ কাউন্টার মামলাটি গ্রহন করার পরদিন তিনি জানতে পারেন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তাকে দেয়া হয়েছে। মামলা গ্রহনের ৫ দিন হলেও ঘটনাটি তদন্ত করার কোন সুযোগ হয় নি। তবে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য