নিউ ইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে সাইকেলের লেইনে ট্রাক তুলে দিয়ে আটজনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাইফুল্লো সাইপভ বলেছেন, হ্যালোউইন উৎসবেই হামলার পরিকল্পনা ছিল তার।

বুধবার ফেডারেল আদালতে ২৯ বছর বয়সী এই উজবেক অভিবাসীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) বিভিন্ন উপাদান ও সম্পদ দিয়ে সহায়তা করারও অভিযোগ এনেছেন।

এদিন হাতকড়া পরা সাইফুল্লোকে হুইল চেয়ারে করে আদালতে নিয়ে আসা হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মঙ্গলবারের ওই সন্ত্রাসী হামলার পর পুলিশের গুলিতে আহত হন সাইফুল্লো। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

জিজ্ঞাসাবাদে ২০১০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সাইফুল্লো জানান, দুই মাস আগেই হ্যালোউইন উৎসবে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন তিনি। উৎসবের সময় রাস্তায় বেশি ভিড় থাকবে এই চিন্তাতেই হ্যালোউইনকে বেছে নেওয়া।

হামলার সময় ট্রাকে আইএসের পতাকা উড়ানোরও পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। যদিও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর কাড়বে এই চিন্তা থেকে ওই পরিকল্পনা বাদ পড়ে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে খোলামেলা ভাবেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সাইফুল্লো।

এই উজবেক অভিবাসী জানান, ইরাক যুদ্ধের প্রতিশোধ নিতে মুসলমানরা কি করছে, আইএস প্রধান আবু-বকর আল বাগদাদির এমন প্রশ্নের জবাবে অনুপ্রাণিত হয়ে নিউ ইয়র্কে হামলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সাইফুল্লোর ফোনে আইএসের প্রোপাগান্ডামূলক ৯০টি গ্রাফিক ও ভিডিও কন্টেন্ট পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ২২ বছর বয়সে ডিভি লটারির মাধ্যমে উজবেকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন সাইফুল্লো। নিউ জার্সির পিটারসনে থাকার আগে তিনি ফ্লোরিডার টাম্পায়ও দীর্ঘসময় বসবাস করেছেন।

বিশ্বজুড়ে ট্যাক্সি সার্ভিস চালানো অ্যাপ উবার জানিয়েছে, সাইফুল্লো তাদের নিবন্ধিত চালক ছিলেন।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ২০১৫ সালে এফবিআইয়ের এক সন্ত্রাসবাদবিরোধী তদন্তে সাইফুল্লোর নাম আসে। উগ্রবাদে জড়িত এমন অন্তত একজন উজবেক নাগরিকের সঙ্গে তখন সাইফুল্লোর যোগাযোগ ছিল বলে গোয়েন্দারা জানতে পারেন।

তদন্তের মূল লক্ষ্যবস্তু না হওয়ায় এফবিআই তখন সাইফুল্লোকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল কী না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিউ ইয়র্কে ট্রাক হামলার পর পুলিশ মুখাম্মাদজয়ের কাদিরভ নামে আরেক উজবেক নাগরিককেও খোঁজার কথা জানিয়েছিল।

বুধবার এফবিআই জানিয়েছে, ৩২ বছর বয়সী কাদিরভের সন্ধান মিলেছে। এই সম্বন্ধে বিস্তারিত বলতে রাজি হয়নি তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলাকারী সাইফুল্লোর মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। নিউ ইয়র্কের আইনে মৃত্যুদণ্ডের সুযোগ নেই।

হামলা বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিচার ব্যবস্থার ওপরও এক হাত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে কিউবার গুয়ানতানামো বে বন্দীশালায় পাঠানো উচিত।

বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসী আনতে চালু ডিভি লটারি বন্ধের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় উজবেকিস্তানকে যুক্ত করা হবে কি না তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

ট্রাম্পকে করা ফোনে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তার দেশ এই হামলার তদন্তে সব বাহিনী ও সম্পদ দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

উজবেক কর্মকর্তারা সাইফুল্লোর পরিচয় কিংবা জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

বুধবার নিউ ইয়র্ক জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতি ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি। রোববার নিউ ইয়র্ক ম্যারাথনের সময়ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবারের হামলায় নিহত ৮ জনের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন আর্জেন্টিনার নাগরিক, একজন বেলজিয়ামের; বাকি দুই মার্কিন নাগরিকের পরিচয় জানা যায়নি।

হামলায় আহত ১২ জনের মধ্যে ৯ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে বিবিসি। আহতদের কারো অবস্থাই ‘জীবন সংশয়ী’ নয় বলে এর আগে নিউ ইয়র্কের পুলিশ জানিয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য