তৌকীর আহমেদ। শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন দক্ষ নির্মাতা হিসেবেও তিনি মিডিয়ায় বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। বড় পর্দার নির্মাতা হিসেবে তৌকীর আহমেদ এ পর্যন্ত ‘জয়যাত্রা’, ‘রূপকথার গল্প’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ও ‘অজ্ঞাতনামা’ নামে চারটি ছবি উপহার দিয়েছেন। এর আগে ‘জয়যাত্রা’ ছবির নির্মাতা হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। তার নির্মিত সর্বশেষ ‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিটি বিশ্বের বিভিন্ন উৎসবে পুরস্কৃত ও প্রশংসিত হচ্ছে। আগামি ১লা ডিসেম্বর তার পরিচালনায় পঞ্চম ছবি ‘হালদা’ মুক্তি পাবে।

বর্তমানে এ ছবির প্রচারণার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত আছেন তৌকীর আহমেদ। ছবিটিতে জাহিদ হাসান, তিশা, মোশাররফ করিম, ফজলুর রহমান বাবু, রুনা খানসহ আরো অনেকে অভিনয় করেছেন। ‘হালদা’ ছবিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তৌকীর আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, নদী ও মানুষের জীবনের গল্প ‘হালদা’। আর নদী ও নারীর মধ্যে একটা জায়গায় খুব মিল আছে। আমরা নারীকে নির্যাতন করি, আমরা নদীকেও নির্যাতন করি।

নদী ও নারীকে নির্যাতন সইতে হয় আজন্ম। ‘হালদা’ সেই সব গল্পকেই তুলে ধরার চেষ্টা করবে। ছবির গল্প লিখেছেন আজাদ বুলবুল। এ ছবির মধ্যে গানও আছে, বিনোদনও আছে, মানুষের গল্পও আছে। আবার একটি নদীর কাহিনি আছে। ছবির চরিত্রগুলো নিয়ে কিছু বলুন? তৌকীর আহমেদ বলেন, এ ছবিতে সবাই বেশ পরীক্ষিত অভিনেতা-অভিনেত্রী। মোশাররফ করিমকে এ ছবিতে যেভাবে দর্শক দেখবেন সেভাবে আগে দেখেননি। এখানেও একটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাবেন।

এ ছাড়া জাহিদ হাসান, তিশা, বাবু, রুনা খান, শাহেদ আলী, মোমেনা চৌধুরীসহ প্রত্যেকে বেশ ভালো অভিনয় করেছেন। আমার মনে হয়, দর্শক তাদের অভিনয় পছন্দ করবেন। তিনি আরো জানান, নদী ও নদীর গতি-প্রকৃতি, নদীর ক্ষয় এবং নদীতীরবর্তী মানুষের জীবনের প্রবাহ ও জটিলতা- এসব উঠে আসবে ‘হালদা’ ছবির কাহিনীতে। এ ছবির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করছেন তৌকীর আহমেদ। চট্টগ্রামের হালদা নদীর আশপাশেই হয়েছে এর শুটিং। এ ছবির শুটিং করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতায় পড়তে হয়েছিল ইউনিটকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৌকীর আহমেদ বলেন, আমরা যেখানে শুটিং করেছি, এর আগে সেখানে কোনো শুটিং হয়নি। তাই সকাল থেকেই লোকজন শুটিং দেখার জন্য ভিড় জমাত। আর শুটিংয়ের বাজেট ছিল সীমিত। তাই এরমধ্যে শুটিং শেষ করা খুব কষ্টের ছিল। এ ছাড়া লোকজনের ভিড় কন্ট্রোল করাটা সহজ ছিল না। এজন্য আমরা খুব ভোর বেলা শুটিং শুরু করতাম। কারণ তখন সবাই ঘুমিয়ে থাকত। এভাবে রাত-দিন মিলে শুটিং শেষ করেছি। ইউনিটের সবাই বেশ পরিশ্রম করেছে। গত বছর এ ছবির কাজ শুরু হয়েছিল। ছবিটি মুক্তির ব্যাপারে কি পরিকল্পনা জানতে চাইলে তৌকীর আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ৪০-৪৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

ছবির পরিবেশনায় থাকছে দি অভি কথাচিত্র। চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের বিষয় থাকবে কেন, এটি আরো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম বলে মনে করেন তৌকীর আহমেদ। ‘হালদা’র মাধ্যমে তেমনই একটি বড়মাপের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নির্মাতা হিসেবে তৌকীর আহমেদ মানুষের গল্প বলতে চান, জীবনের গল্প বলতে চান। এবং সে গল্পটা যেন আমাদের দেশের হয়, এখানকার মানুষের হয়। এমনটিই জানিয়েছেন তিনি। সবশেষে ‘হালদা’ মুক্তির পর নতুন ছবির খবর ও নিজের অভিনয় ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাইলে তৌকীর আহমেদ বলেন, আমাকে তো নির্মাতারা আর অভিনয়ের জন্য ডাকে না!

সবাই মনে হয় ভাবেন যে, আমি নির্মাণ নিয়ে খুব ব্যস্ত। আমি অভিনয়কে ভালোবাসি এবং ভালো চরিত্র পেলে সবসময়ই তা করতে চাই। আর নির্মাতা হিসেবে নতুন ছবির চিত্রনাট্য প্রস্তুত করেছি। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে ঘিরে এর কাহিনী। নাম রেখেছি ‘ফাগুন হাওয়ায়’। নতুন বছরে এ ছবির কাজ শুরু করার ইচ্ছে রয়েছে। এদিকে এসব কাজের বাইরে সর্বশেষ একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন তৌকীর আহমেদ। বিজ্ঞাপনটি এসকেবি এসএস পাইপের। যেটি নির্মাণ করেছেন রানা মাসুদ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য