পণ্যবাহী ট্রাকের চাকা অনুযায়ী শুল্কায়নের কারণে ৪ বছর ধরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে। লোকসানের কারণে এ স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বন্দরটি কাঙ্খিত রাজস্ব আহরণ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

অথচ এ নিয়ম চালুর আগে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন কমলা, আপেল, আঙুর, আনারসহ বিভিন্ন ধরনের তাজা ফল ৩৫ থেকে ৪০ ট্রাক আমদানি হতো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিয়মটি তুলে নিলে আবার পর্যাপ্ত ফল আমদানী হবে এবং রাজস্ব বাড়বে। পাশাপাশি দেশের বাজারেও ফলের দামও কম থাকবে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ জানান, হিলি স্থলবন্দরের সঙ্গে ভারতের হিলি বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় আমদানি করা পণ্য সহজেই দেশে প্রবেশ করতে পারে। হিলির সঙ্গে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের যোগাযোগও ভালো। ফলে আমদানিকারকরা আমদানি করা ফলসহ বিভিন্ন পণ্য সহজেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে পাঠাতে পারেন। এসব কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের আমদানিকারকদের কাছে জনপ্রিয় এ হিলি স্থলবন্দর।

তিনি আরও জানান, নতুন নিয়ম চালুর আগে হিলি দিয়ে ভারত থেকে গড়ে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ ট্রাক ফল আমদানি হতো। কিন্তু ২০১৩ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি সোনা মসজিদ ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে ৬ চাকার গাড়িতে ১৪ টন, ১০ চাকার গাড়িতে ১৮ টন এবং ১২ চাকার গাড়িতে ২০ টন পণ্যের শুল্কায়নের পদ্ধতি চালু করা হয়।

এর ফলে একজন আমদানিকারক একটি ৬ চাকার গাড়িতে ৫ টন ফল আমদানি করলেও ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ টন হিসেবে পণ্যের শুল্কায়ন করে রাজস্ব আদায় করা হবে। এতে আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানি করে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হন। এরপর থেকে লোকসানের আশঙ্কায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের তাজা ফল আমদানি বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। তবে এখন বগুড়ার এক ব্যবসায়ী ফল আমদানী করে। দিনে মাত্র ফল নিয়ে একটি ট্রাক আমদানী হয়।

তাই রাজস্ব আহরণের স্বার্থে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফলসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে গাড়ির চাকা অনুযায়ী শুল্কায়নের পদ্ধতি শিথিল করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য