প্রায়ই ‘ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন্স’ অর্থাৎ মূত্রনালীর সংক্রমণ বা জ্বালাপোড়ায় ভোগেন? তাহলে দৈনিক পরিমাণের চাইতে ছয় কাপের মতো বেশি পানি পান করলে এই সমস্যা কমে যেতে পারে।

এক গবেষণায় এমন ফলাফলই পাওয়া গেছে।
দ্য ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজ’য়ের তথ্যানুসারে, সারাজীবনে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ নারীর মূত্রনালীর সংক্রমণ দেখা দেয়। আর সচেতনতার অভাবে এদের মধ্যে চারজনের একজনের এই রোগ পুনরায় হতে দেখা যায়।

ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামি’র সংক্রমণ রোগ বিভাগের রোগশয্যা পরিচালক ও গবেষণার প্রধান লেখক টমাস এম. হুটন বলেন, “এটা জেনে রাখা প্রয়োজন যে, বিরক্তিকর সংক্রমণ ও এর অস্বস্তি দূর করার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হল পানি পান।”

গবেষণা থেকে জানা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের মূত্রনালী ছোট এবং এটা মূত্রনালী ও মূত্রাশয় বিশিষ্ট একটি ‘টিউব’। এর মধ্য দিয়ে শরীরের তরল বর্জ্য অপসারিত হয়।

তাই ব্যাক্টেরিয়া মলনালী থেকে যোনিপথে ছড়ায় যা নারীদের মূত্রাশয়ের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

অতিরিক্ত তরল পান করা হলে তা শরীর থেকে ব্যাক্টেরিয়া বের করে দিতে সাহায্য করে এবং যোনি থেকে মুত্রথলিতে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের হার কমায়, জানান গবেষকরা।

হুটন আরও বলেন, “এতে মুত্রনালীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কোষে ব্যাক্টেরিয়া ছড়িয়ে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে।”

‘প্রি-মেনোপোজাল’ বা রজোনিবৃত্তির পথে বা যাদের সবে রজোবন্ধ হয়েছে এরকম ১৪০ জন সুস্থ নারীর উপর জরিপ চালান গবেষকরা।

ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব নারী তাদের পানি পান করার পরিমাণ বৃদ্ধি করেন তারা গড়ে ১.৬ বার মূত্রনালীর সংক্রমণের শিকার হন। অন্যদিকে, যারা কম পানি পান করেরন তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৩.১ গুণ বেশি।

হুটন বলেন, “যদি কোনো নারী পুনরায় মূত্রনালীর সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে চান তাহলে তাকে পানি পানের পরিমাণ বাড়াতে হবে।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য