ভারতে বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক তাজমহলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত ও আপত্তিকর ছবি ও মন্তব্য পোস্ট করায় হিন্দুত্ববাদী দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) উত্তর প্রদেশ নবনির্মাণ সেনার প্রেসিডেন্ট অমিত জানি ও তার সহযোগী উপদেশ রানাকে গ্রেফতার করেছে।

অমিত জানি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তাজমহলের ছবির বিভিন্ন মিনারে গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে পোস্ট করেছিলেন। এছাড়া তাজমহলকে ‘মন্দির’ বলে উল্লেখ করে এর নাম ‘তেজোমহল হওয়া উচিত’ বলে মন্তব্য করেন। সেইসঙ্গে আগামী ৩ নভেম্বর সকল হিন্দুকে আগ্রায় যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

উত্তর প্রদেশের মীরাটের বাসিন্দা অমিত জানি ও উপদেশ রানার বিরুদ্ধে আগ্রায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইন অনুসারে আগ্রার তাজগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ওই দু’জনকে আগ্রা পুলিশ এসটিএফ ও লক্ষনৌ পুলিশের সহায়তা নিয়ে লক্ষনৌয়ের মাল অ্যাভিনিউ থেকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের আগ্রায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অমিত জানি এবং উপদেশ রানা গত ২৩ অক্টোবর তাজমহলে পৌঁছে বেশ কয়েকজন হিন্দুত্ববাদীর সঙ্গে ‘শিব চালিসা’ পাঠ করেছিলেন।

অমিত জানির বিরুদ্ধে আগেও অনেক অভিযোগ আছে। উত্তর প্রদেশে বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর মূর্তি ভাঙার অভিযোগে তিনি একসময়ে কারাগারেও গেছেন।

এ বিষয়ে আজ (মঙ্গলবার) অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল মাতিন রেডিও তেহরানকে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘তাজমহল মুঘল বাদশাহ শাহজাহানের কৃতিত্ব তা ঐতিহাসিকরা সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করবেন। কিন্তু যেটিতে বিপুল অর্থের উপার্জন হয়, দেশি-বিদেশি পর্যটকরা যেখানে প্রতিনিয়ত এসে থাকেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে তারা আসলে দেশের ক্ষতিই চান। ভারতের যারা বৈদেশিক শত্রু তাদের সঙ্গে তাজমহল সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য প্রদানকারীদের মধ্যে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাজমহলের অবদান রয়েছে। সেজন্য এর নেপথ্যে আর্থিকভাবে ভারতকে পঙ্গু করার চক্র কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা বলছেন বিশ্বাসঘাতকরা তাজমহল তৈরি করেছে, তারা আসলে বড়মাপের বিশ্বাসঘাতক!’

তাজমহল নিয়ে হিন্দুত্ববাদী যেসব নেতা বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলেও মুফতি আব্দুল মাতিন মন্তব্য করেছেন।

সম্প্রতি বিজেপি নেতা ও বিধায়ক সঙ্গীত সোম তাজমহলকে ভারতীয় সংস্কৃতির কলঙ্ক এবং তা বিশ্বাসঘাতকদের তৈরি বলে মন্তব্য করেন। তিনি মুঘল সম্রাট বাবর, আকবর, আওরঙ্গজেবকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেন। বিজেপি এমপি বিনয় কাটিয়ার তাজমহলকে ‘তেজো মহালয় ও শিব মন্দির’ বলে দাবি করেছেন। এ নিয়ে বিভিন্নমহলে তিনি তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য