স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ায় কাতালুনিয়ার আঞ্চলিক সরকারের যে নেতৃত্বকে বরখাস্ত করা হয়েছে, চাইলে তারাও ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছে স্পেন।

শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের এক মুখপাত্র জানান, কাতালান নেতাদের রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়নি। এ কারণে আঞ্চলিক নির্বাচনে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের জন্য কোনো বাধা নেই।

মাদ্রিদ ও কাতালুনিয়ার মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে স্পেন সরকারের এই ঘোষণা এলো বলে জানিয়েছে বিবিসি। যদিও এতে সঙ্কট সমাধানের বিন্দুমাত্র কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

এদিন আনু্ষ্ঠানিকভাবে কাতালুনিয়ার স্বায়ত্বশাসন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরে এক রাষ্ট্রীয় বুলেটিনে কাতালুনিয়ার দায়িত্ব স্পেনের উপ প্রধানমন্ত্রী সোরায়া সায়েনজ দে সান্তামারিয়ার হাতে হস্তান্তর করা হয়। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরে কাতালুনিয়ার পুলিশের দায়িত্বভার নেন এবং শীর্ষ পদের অনেক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন।

আগের দিন কাতালান পার্লামেন্ট ও আঞ্চলিক সরকারকে বরখাস্ত করে স্পেন। শুক্রবার কাতালান পার্লামেন্টে স্বাধীনতার ঘোষণাটি ৭০-১০ ভোটে বিজয়ী হওয়ার কিছুসময় পরেই কেন্দ্রের সরকার এই ঘোষণা দেয়।

কাতালান নেতারা মাদ্রিদের সরাসরি শাসনকে প্রত্যাখ্যান করতে কাতালুনিয়ার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কার্লেস পুজদেমন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে’ শামিল হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার বিকালে টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে পুজদেমন, কাতালুনিয়ার ওপর মাদ্রিদের চাপিয়ে দেওয়া শাসনকে ‘পূর্বপরিকল্পিত আগ্রাসন’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

“এটা আমাদের জনগণের ইচ্ছার সম্পূর্ণ বিপরীত। জনগণ ঠিকই জানে গণতন্ত্রে পার্লামেন্টই একজন প্রেসিডেন্টকে পছন্দ কিংবা সরিয়ে দেওয়ার অধিকার রাখে।“

তিনি তার সমর্থকদের ‘বিজয়ীর মত আচরণ’ অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান।

“সহিংসতা ছাড়া, অপমান ছাড়া, সবাইকে নিয়ে, মানুষ, প্রতীক ও সবার মতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো। আমরা বিরোধী কাতালানদের মতকেও সম্মান জানাবো, যারা পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের সঙ্গে একমত নয়।”

এরপরই কেন্দ্রীয় সরকারের মুখপাত্র ইনিজো মেনদেজ দে ভিগো ডিসেম্বরের নির্বাচনে কাতালান নেতারা দাঁড়ালে তাদের স্বাগত জানানো হবে বলে মন্তব্য করেন।

“পুজদেমন যদি নির্বাচনে অংশ নেন তাহলেও তিনি তার গণতান্ত্রিক বিরোধীতার চর্চা করতে পারবেন।”

শনিবার বার্সেলোনা এবং মাদ্রিদে অখণ্ড স্পেনের পক্ষে সমাবেশ হয়েছে। এসব সমাবেশে অংশগ্রহণকারী অনেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া কাতালান নেতাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

এর পাল্টায় স্বাধীনতাপন্থিরা রোববার বিকালে বার্সেলোনায় বিশাল সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিবিসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য