হাভানায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মীদের ওপর শব্দতরঙ্গ হামলার যে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন তাকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে কিউবা।

‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এই অভিযোগ বলেও দাবি তাদের।

শনিবার ওয়াশিংটনে এক বৈঠক শেষে কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ব্রুনো রড্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এই দাবি করেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্র হাভানায় তাদের দূতাবাসে শব্দতরঙ্গ হামলার অভিযোগ করে আসছে। হামলায় অন্তত দুই ডজন কর্মীর স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

শব্দতরঙ্গ হামলা কিউবা-ই চালাচ্ছে এমনটা না বললেও এই কারণ দেখিয়ে ওয়াশিংটনের কিউবা দূতাবাসের ১৫ কূটনীতিককে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

কিউবার নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি। গত মাসে মার্কিন নাগরিকদের কিউবা ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি করা হয়।

কিউবা অবশ্য শুরু থেকেই দূতাবাস কর্মীদের ওপর হামলার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে প্রবাসী কিউবানদের সঙ্গে বৈঠকেও ফের একই কথা বলেন রড্রিগেজ।

“হামলার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। এই অভিযোগ উভয় দেশ এবং সরকারের মধ্যে সম্পর্ককে ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র হাভানায় তার দূতাবাস কর্মীদের ওপর শব্দতরঙ্গ হামলার অভিযোগ করলেও তা প্রমাণ করতে পারেনি। যে দূতাবাস কর্মীরা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ব্যাপারেও বিস্তারিত বলেনি ওয়াশিংটন।

এই ধরণের হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাধারণত সামান্য বধিরতা, মাথা ঘোরানো ও বমি বমি ভাবের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কেউ কেউ মস্তিষ্কে ট্রমাজনিত সমস্যায়ও আক্রান্ত হতে পারেন।

রড্রিগেজ বলেন, দূতাবাস কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ‘অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য’।

“কিউবার সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এই অভিযোগের কারণে দুই দেশের সরকারের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা দেবে তাতে শেষ পর্যন্ত জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে,” বলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য