আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর সীমান্তের ওপারে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার সর্দারপাড়া এলাকায় থেকে আটক বাংলাদেশি নাগরিক সাকিব হোসেন (২২) কে ১৬ ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার বিকেলে দিকে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ফেরত দেওয়া হয়। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে সাকিবকে আটক করে বিএসএফ।

লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল গোলাম মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা সাকিব হোসেন পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের মুংলিবাড়ী এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সাকিব বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর সীমান্ত পথে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার সর্দারপাড়া এলাকায় বোন ময়নার বাড়িতে বেড়াতে যায়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কোচবিহার-৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চ্যাংড়াবান্ধা ক্যাম্পের একটি টহল দল তাকে চ্যাংড়াবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আটক করে। তার কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছিল। সাকিবকে আটকের খবর জানাজানি হলে বুড়িমারী জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বসে বিজিবি-বিএসএফ। তাতে সাকিবকে ফের দিতে বিএসএফ অস্বীকৃতি জানালেও পরে এলাকাবাসীর দাবি বিষয়টি বিজিবি বিএসএফকে জানালে সাকিবকে ফেরত দিতে রাজি হয় বিএসএফ। বিকেলে পতাকা বৈঠকে তাকে ফেরত দেওয়া হয়।

সাকিবের বাবা আব্দুল মজিদ মোবাইল ফোনে অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২৬ সেপ্টেম্বর বৈধভাবে সাকিব ভারতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। কিন্তু বিএসএফ তাকে অন্যায়ভাবে ও প্রচলিত প্রথা ভেঙে পাসপোর্টধারী হওয়া সত্ত্বেও আটক করে নির্যাতন করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’ লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল গোলাম মোর্শেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি সাকিব হোসেনকে ফেরত আনতে বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়। পরে বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর জিরো পয়েন্টে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সাকিবকে বিকেলে দিকে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য