আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল থেকেঃ ঠাকুরগায়ের রানীশংকৈল পৌরসভার (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচি) ২০১৬-১৭ ইং অর্থ বছরের জুন মাসের দরপত্র নং পাঁেচর এডিপির কাজ বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যদিও অনিয়মের কথা মানতে নারাজ পৌর সহকারী প্রকৌশলী এ এস এম জাবেদ আলী।

বরাদ্দকৃত টেন্ডার অনুযায়ী কাজ না হওয়া, পরিমাণ মত সিমেন্টের চেয়ে বালু বেশি দিয়ে কাজ করা। রাস্তা নির্মানের মাস না পেরুতেই ফাটল ধরা, নতুন রাস্তায় পুরনো ইটের ব্যবহার। নিন্ম মানের ইট সাইজ বিহিন খোয়া ও সঠিক তদারকির অভাব বরাদ্দকৃত দুই রাস্তার কাজ এক রাস্তায় করাসহ নানান অভিযোগ উঠেছে পৌর সভায় বরাদ্দকৃত এডিপির কাজ বাস্তবায়ন নিয়ে।

সম্প্রতি এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে শুভর বাড়ী হতে ঠাকুরের বাড়ী পর্যন্ত দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দে টেন্ডার হয় একশ ত্রিশ মিটার রাস্তা সিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজের। এ কাজ টেন্ডারে পেয়ে বাস্তবায়ন করে কাকলী এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ।

এ রাস্তার নেই কোন নির্দিষ্ট পরিমাপ। রাস্তাটির কোথাও বেশি পরিমানের সিসি ঢালাই হয়েছে কোথাও কম হয়েছে। এছাড়াও রাস্তাটির প্রথম অংশে ইটের রেজিং বাদেই সিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। রাস্তা দেখে খুব সহজভাবেই বুঝা যায় সিমেন্টের চেয়ে বালুর পরিমানই বেশি। রাস্তার উপরে অংশে দেখা যায় গুড়ো গুড়ো খোয়া হাত দিয়ে চটকালেই উঠে আসছে। এ রাস্তাটি অত্যন্ত নিন্ম মানের হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

একইভাবে পৌরসভার ২নং ওর্য়াডে মোট দুই লক্ষ দশ হাজার টাকা টেন্ডার বরাদ্দে এলিজা সুলতানা ট্রের্ডাস নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুই স্থানে মোট তিরানব্বই মিটার রাস্তা সিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজ করা কথা। কিন্তু সিডিউল অনুযায়ী দেখা যায়,বাস্তবায়ন হয়েছে উল্টো। সিডিউলে পলাশ চত্বর জয়নালের দোকান হতে ফারাজুলের বাড়ী এবং ফিরোজের বাড়ী হতে সালামের বাড়ী পর্যন্ত সিসি দ্বারা উন্নয়নের কাজ করার কথা থাকলেও শুধু মাত্র ফিরোজের বাড়ী হতে সালামের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তাটি কাজ করেই কাজের সমাপ্তি টেনেছেন ঠিকাদার।

এদিকে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে তিনলক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা টেন্ডার বরাদ্দে আবু শাহীন নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গড় পাড়া নামক স্থানের দুইশ দশ মিটার সিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজটি করে। এ রাস্তায় দেখা যায়, রাস্তার দুধারে রেজিং এ পুরনো ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও পুরনো ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তা নির্মান করা হয়েছে। এ রাস্তা নির্মানের বয়স মাস না পেরুতেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। ঐ রাস্তার পাশেই সংসারের কাজ করছিলেন স্বপ্না বসাক তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন,পুরনো ইট দিয়ে রাস্তা করেছে। রাস্তাটি ফাটল ধরা শুরু করেছে। মনে হচ্ছে রাস্তাটি খুব শ্রীঘই নষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি আশংকা করেন। এছাড়াও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাইজবিহিন গুড়ো খোয়া ও পানি সেচ বিহিন সিসি রাস্তা নির্মাণ করাই রাস্তার অবস্থা এখন থেকে নাজেহাল হওয়া শুরু হয়েছে।

এভাবেই পৌরসভার টেন্ডারকৃত ত্রিশ লক্ষ পঁচাশি হাজার টাকার বরাদ্দে মোট ১১টি প্যাকেজের বিভিন্ন স্থাপনার বেশিরভাগই অনিয়মের মধ্যে দিয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এদিকে নজর নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। পৌর সহকারী প্রকৌশলী এ এস এম জাবেদ আলী অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন,কাজ দেখে বিল দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র আলমগীর সরকার বলেন, বিষয়টি পর্যবেক্ষনে অনিয়ম অনিয়ম পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য