প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশ্বর সবচেয়ে বড় কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলছে সৌদি আরব, যাতে এর গুণে লোহিত সাগরের তীরে নির্মীয়মাণ ভবিষ্যৎ জীবনে শক্তি সঞ্চার করা যায়। এই সাগরের ওপর ৫০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি।

গত বুধবার রাজধানী রিয়াদে ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই পরিকল্পনার কথা জানান। যুবরাজ বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশ্বের কয়েকটি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলছে সৌদি আরব।

এর মধ্য রয়েছে আমাজন ডটকম, আলিবাবা গ্রুপ এবং এয়ারবাসের মতো প্রতিষ্ঠান। লোহিত সাগরের উপকূলে ৫০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে পরিকল্পিত নতুন মহানগরের নির্মীয়মাণ নগরের জীবনে শক্তি সঞ্চারে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই মহানগর ‘নিয়ম’ নামের এক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। গত মঙ্গলবার এই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকল্প উন্মোচন করেন যুবরাজ সালমান। ওই প্রকল্পটি ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে কিছুকিছু কাজ ২০২০ সাল নাগাদ শুরু হতে পারে।

৩২ বছরের এই যুবরাজ বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে কথা বলছি।’ এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ চলছে বলে তিনি জানান।

প্রায় আধা শতক ধরে সৌদি আরবের অর্থনীতি তেলে ভাসছে! এখন পর্যন্ত দেশটির চালিকাশক্তির মূলে তেল রপ্তানি করে পাওয়া অর্থ। রাজতন্ত্রের খরচও মিটছে তা দিয়েই। তাই তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনতে সংস্কারের পথে হাঁটছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশটি। কারণ, প্রাকৃতিক সম্পদ একদিন না একদিন ফুরিয়ে আসবে।

তাই রক্ষণশীল রাজ্যের আধুনিকায়নে হঠাৎ করেই যেন সংস্কারের দিকে নজর দিয়েছে সৌদি আরব। গত দুই বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকোর শেয়ার বিক্রি এবং নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির সরকার। এরপর চলতি সপ্তাহে এ মহানগর তৈরির প্রকল্পের ঘোষণা।

এই প্রকল্প উপলক্ষে মঙ্গলবার একটি প্রচারমূলক ভিডিওচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে মহানগরের যে জীবনধারা তুলে ধরা হয়েছে, এর সঙ্গে বর্তমান সৌদি আরবের জীবনধারার কোনো মিল নেই। ভিডিওচিত্রটিতে নারীদের জগিং স্যুটে উন্মুক্ত স্থানে ব্যায়াম, পুরুষের পাশাপাশি কাজ করতে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাতে দেখা গেছে।

পরিকল্পিত এই মহানগরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা উল্লেখ করে যুবরাজ বলেন, ‘আপনার চিকিৎসা-সংক্রান্ত ফাইল, আপনার বাড়ির, পরিবারের-এমনকি গাড়ির কাগজপত্রের তথ্য সব এক জায়গাতেই পাওয়া যাবে।’ ‘কীভাবে আপনাকে আরও ভালো সেবা দেওয়া যায়, সে অনুযায়ী এই পদ্ধতির উন্নয়ন করা হবে।’

যুবরাজ মোহাম্মদের স্বপ্ন অ্যাপ পরিচালিত একটি শহর গড়ে তোলা, যা নগরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য