চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বন্যা পরবর্তী সময় কাটিয়ে উঠে আমন ধান কাটা-মাড়াই পুরোদমে শুরু করেছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষকরা। ফলে তাদের চোখে মুখে কেবল হাসি আর আনন্দ। আগষ্টের ভয়াবহ বন্যার পর কৃষকরা মনোবল শক্ত করে নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়ে আমনের মাঠে কোমর বেঁধে নামায় বাম্পার ফলন হয়েছে।

এখন তাদের পরিশ্রমের ফসল কোন প্রকার রোগ বালাই ছাড়াই ঘরে তুলতে পেরে তারা আনন্দে আত্মহারা। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষক ও মজুররা দলবদ্ধ ভাবে বিভিন্ন স্থানে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজারে ধানের দাম বেশী থাকায় কৃষকরা বেশ উৎফুল্ল।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ১’শ ৭৪ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল । কিন্তু স্বরণ কালের ভয়াবহ বন্যার শুরুতে রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হলেও বর্তমানে বন্যা পরবর্তী সময় কাটিয়ে অর্জিত হয়েছে ২৩ হাজার ১’শ ১৫ হেক্টর জমি যা গত বছরের তুলনা বেশী। সাতনালা গ্রামের ধান চাষী সামাদ বলেন, বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় অন্যান্য জাতের তুলুুনায় কাটারী ধানও বেশী চাষ হয়েছে। এজন্য কাটারী ধানের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে মাঠ।

একই কথা বলেন আলোকডিহি গ্রামের ধান চাষী নুরজামান । নশরতপুর ইউনিয়নের মাঠে ধান কাটার সময় নালীপাড়া গ্রামের কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তিনি স্বর্ণা-মামুনসহ এ জাতের ধান বিঘা প্রতি ২৩ থেকে ২৫ মণ হারে পাচ্ছেন। বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮’শ টাকা। তিনি আরও জানান, ধানের এমন দাম পাওয়া গেলে তাদের কোন সমস্যা হবে না।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান, বন্যা পরবর্তী সময় কাটিয়ে আগাম জাতের রোপা আমন ধানের চাষ ভাল হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার সর্বত্রই কৃষকরা ধান কাটতে শুরু করেছে। কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসল মাড়াই সু-সম্পূর্ন করতে পারলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও তিনি মনে করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য