বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীন ইউয়ান ভিত্তিক তেল কেনার চুক্তি শুরু করেছে। চলতি বছর থেকেই এ পদ্ধতি গ্রহণ করার পরিকল্পনা করছে বেইজিং। বিশ্লেষকরা একে ‘পেট্রো-ইউয়ান হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি, তারা বিশ্ব জুড়ে ডলারের আধিপত্যের বিরুদ্ধে বিশাল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন একে।

তারা বলছেন, চীনের পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামায়নি সেসব বিনিয়োগকারী তাদের এবারে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। কথিত ‘পেট্রো-ইউয়ানকে’ সতর্ককারী বার্তা হিসেবেও উল্লেখ করেন গ্রাটিকুল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এশিয়ার প্রধান অ্যাডাম লিভিসন। তার বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

চলতি বছরের গোড়ার দিকে চীনা সরকার এ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। এতে ভবিষ্যতে ক্রয় চুক্তিতে অপরিশোধিত তেলের দাম ইউয়ানে নির্ধারণ করা হবে এবং তা সোনায় রূপান্তরের সুযোগ থাকবে বলেও জানানো হয়েছিল। এতে চীনা সম্পদ বা ডলারের ওপর আর অর্থকে নির্ভর করতে হবে না।

ইউয়ানের ভিত্তিতে তেলের বাণিজ্য করায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারবে রাশিয়া, ইরান বা ভেনিজুয়েলার মতো দেশগুলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে চীনা কর্পোরেশনগুলো সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি জাতীয় মুদ্রা ব্যবহারের সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারবে তারা।

লিভিসন বলেন, সৌদি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগকারী হয়ে উঠতে পারে চীনা কোম্পানিগুলো। সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল সংস্থা আরামকোর শেয়ার খোলা বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা করেছে রিয়াদ এবং তার ভিত্তিতে এ সুযোগ নিতে পারে চীন।

চীনের ‘পেট্রো-ইউয়ান’ পরিকল্পনা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশও করেছেন। এ ছাড়া, এখনি তেলের বাজারে চীনা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হবে তাও মনে করছেন না অনেকে। কিন্তু তারা স্বীকার করছেন, বিশ্ব বাজারে ডলারের অবক্ষয়ের সূচনা হয়েছে। হিমবাহ ক্ষয় হওয়ার আগে যে সব উপসর্গ দেখা দেয় একই উপসর্গ ডলারের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে বলে জানান অ্যানালাইসিস অব গ্লোবাল সিকিউরিটির সহ-পরিচালক গাল লুফট।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য