এক অভিনেত্রীর যৌন হেনেস্তার অভিযোগের পর ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ। বুধবার এক মুখপাত্রের মাধ্যমে ওই অভিনেত্রীর কাছে ক্ষমা চান তিনি, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তবে ওই অভিনেত্রী যৌন হেনেস্তার অভিযোগ করলেও আত্মপক্ষ সমর্থন করে সিনিয়র বুশ বলেছেন, ছবি তোলার সময় ওই অভিনেত্রীকে সহজ করার জন্য বন্ধুভাবাপন্নভাবে তাকে মৃদু চাপড় দিয়েছিলেন এবং রসিকতা করেছিলেন তিনি।

অপরদিকে হ্যাদার লিন্ড নামের ওই অভিনেত্রীর অভিযোগ, ২০১৪ সালে এএমসি ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের একটি হিস্টোরিক্যাল ড্রামার প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে বুশের স্ত্রী ও অন্যান্যরাসহ ছবি তোলার সময় বুশ তাকে স্পর্শ করেছিলেন।

সম্প্রতি লিন্ডের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে অভিযোগটি সম্পর্কে জানা যায়।

শনিবার হারিকেন দুর্গতদের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জীবিত পাঁচ সাবেক প্রেসিডেন্ট একটি অনুষ্ঠানে জড়ো হয়েছিলেন।

ওই অনুষ্ঠানে ৯৩ বছর বয়সী বুশ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করছেন এমন একটি ছবি নিজের পোস্টে দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী লিন্ড লিখেন, “এই ছবি দেখে তিন বছর আগে ৪১তম প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার নিজের সাক্ষাতের কথা মনে পড়ছে, যখন আমি এ ধরনের একটি ছবির জন্য পোজ দেওয়ার সময় তিনি আমাকে যৌন হেনেস্তা করেছিলেন।

“তিনি আমার হাত ধরে ঝাঁকুনি দেননি। পাশে স্ত্রী বারবার বুশকে নিয়ে নিজের হুইলচেয়ারে বসে আমাকে পেছন দিক থেকে স্পর্শ করেছিলেন তিনি। তিনি আমাকের একটি আশ্লীল কৌতুকও শুনিয়েছিলেন। এরপর সবাই যখন ছবি তোলায় ব্যস্ত তিনি আবার আমাকে স্পর্শ করেন।”

লিন্ড আরো বলেন, “তখন সাবেক ফার্স্ট লেডি তার চোখ পাকিয়েছেন যেন তিনি বলছেন, ‘আর করোনা’।”

ইনস্টাগ্রাম থেকে পোস্টটি মুছে দেওয়া হলেও সম্প্রতি মিডিয়া ও সর্বক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে চলা ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগযুক্ত নিরব প্রতিবাদের অংশ হয়েছে এ পোস্টটিও। একাধিক হলিউড অভিনেত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি অস্কার কমিটির সদস্যপদ হারান মার্কিন ‘মিডিয়া মুঘল’হার্ভি ওয়াইনস্টিন। এরপর সর্বক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শুরু হয় ‘মি টু’হ্যাশট্যাগযুক্ত নিরব প্রতিবাদ।

লিন্ডের পোস্টের জবাবে এক বিবৃতিতে বুশের মুখপাত্র জিম ম্যাকগ্রাথ সাবেক প্র্রেসিডেন্টের ব্যবহারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, গত প্রায় পাঁচ বছরে ধরে বুশ হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না।

তাই “লোকজনের সঙ্গে ছবি তোলার সময় তার হাত লোকজনের কোমরের নিচের দিকে পড়ে থাকে।

“লোকজনকে সহজ করতে ওই একই কৌতুক প্রেসিডেন্ট নিয়মিত সবাইকেই বলে থাকেন এবং অনুষ্ঠানগুলোতে, বন্ধুত্বপূর্ণভাবে তিনি নারীদের পেছন দিকে মৃদু চাপড় দিয়ে থাকেন। অনেকে এটাকে নিষ্পাপ হিসেবে দেখে, অন্যরা এটিকে পরিষ্কারভাবে অসঙ্গত বলে বিবেচনা করে।

“এর মাধ্যমে তিনি যদি কাউকে আঘাত দিয়ে থাকেন, প্রেসিডেন্ট বুশ আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী,” বলেছেন ম্যাকগ্রাথ।

অভিযোগের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বুশের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অভিনেত্রী লিন্ডের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য