চিরিরবন্দরের পুনট্টি ইউনিয়নের আমতলি বাজার হতে তুলশিপুর গ্রাম, গমিরাবাজার হয়ে অমরপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তাটি ওই এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তা। এটি বর্ষাকালে খিয়ার মাটির হাঁটু কাদা ও খরার সময় ধূলোর রাজ্যে জনগণের চলতে হয়। চলতি বর্ষা মৌসুমে স্কুলগামি শিক্ষার্থীসহ আপামর জনগোষ্ঠী চরম দূর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছে।

দীর্ঘদিন যাবত ওই রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি উঠলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তেমন জোরালো ভূমিকা না থাকায় জনগুরুত্বপুর্ণ এ রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত রয়েছে। বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নির্দেশনায় পাকা করণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ভয়াবহ বন্যায় আমতলি বাজারের পার্শ্বে ভেলামতি সুইস গেট ব্রীজের এক পার্শ্বের অংশ সম্পুর্ন্য ভেঙ্গে গেলে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পার্শ্বেই বাঁশের সাকো দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও ওই রাস্তাটি কাদায় বেহাল হয়ে পড়েছে। খিয়ার কাদা মাটি রোদে শুকিয়ে আরো বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে করে চলাচল করতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হচ্ছে যাতায়াতকারীরা। তুলশিপুর গ্রাম যেতে ২০ টাকার ভ্যান ভাড়া বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় দাড়িয়েছে। প্রতিদিন শত শত লোকজন যাতায়াত করছে ওই রাস্তাটি দিয়ে। সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতি মহিলারা।

এছাড়াও আশে পাশের বাজার গুলোতে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে বিপাকে পড়ছে কৃষকরা। তুলশিপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা বারী মোল্লা, হবিবর রহমান, আশরাফ আলী, রুহুল আমিন, শিক্ষক জুয়েল, গমিরা বাজার এলাকার মানিক হোসেন জানান ১৯৮৬ সাল থেকে ভোট আসলে নেতারা প্রতিশ্রতি দেয় রাস্তাটি পাকা করে দেবে, কিন্তু কেউ উদ্যোগ নেয়নি। বর্ষাকালে কাদায় চলাচলে সকলের প্রচুর কষ্ট হয়, রাস্তাটি পাকা হলে সকলের উপকার হত।

পুনট্টি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুর এ কামাল জানান, নিয়মিত যাতায়াতে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে ওই রাস্তা ব্যবহার কারী আনুমানিক ৭০/৭৫ হাজার মানুষ। তাছাড়া ভেলামতির সুইস গেটটি সরু হওয়ায় জরুরী প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, পুলিশের পিকাপ, প্রশাসনের গাড়ী ওই রাস্তায় যেতে পারেনা। ওই রাস্তা পাকাকরণ সহ সুইস গেটটি ভেঙ্গে প্রশস্ত করা জরুরী।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ বলেন, ওই রাস্তাটি পাকা করণের জন্য এলজিইডির পরিকল্পনা চুড়ান্ত পর্যায়ে, ইতোমধ্যে গতকাল ২৫ অক্টোবর বুধবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস( একান্ত সচিব) মোঃ আবদুল মোক্তাদের স্যার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ আয়ুবর রহমান শাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আহসানুল হক মুকুল, এপিএস শাহ সালাউদ্দিনসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও নেতাদের সমন্বয়ে পরিদর্শন করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আহসানুল হক মুকুল বলেন, আমাদের মন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রতি না থাকলেও আগামি অর্থ বছরে ওই রাস্তাটিসহ উপজেলার ডাঙ্গারহাট থেকে দগড়বাড়ি হয়ে বিন্যাকুড়ি সড়ক, দক্ষিণ সুকদেবপুর থেকে ভূষিরবন্দর সড়ক পর্যন্তসহ আরো জনগুরুত্বপুর্ন ৫ টি কাঁচা সড়ক পাকাকরণ করার প্রস্তাব ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যেই টেন্ডার করে কাজ শুরু হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য