দিনাজপুর সংবাদাতাঃ সদ্য জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের বিসিএস সাধারন শিক্ষা ক্যাডার বহির্ভূত রাখার দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন “বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার মর্যাদা রক্ষা কমিটি” দিনাজপুর জেলা ইউনিট এর ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ।

২৫ অক্টোবর বুধবার সকালে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এর হাতে প্রধানমন্ত্রী বারবর প্রেরনের জন্য এই স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনটির জেলা ইউনিটের সভাপতি দিলীপ কুমার রায় ও সহ-সম্পাদক মুহাম্মদ জাকির হোসেনসহ অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করে স্মারকলিপিতে শিক্ষকবৃন্দ বলেন, জাতিকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষা উন্নয়নের অংশ হিসেবে আপনি যে সমস্ত উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই সে উপজেলাগুলোতে একটি করে কলেজ সরকারিকরণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

এই নির্দেশনার ভিত্তিতে ২৮৩টি কলেজ সরকারি করণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উচ্চ শিক্ষাকে জনগণের দোগোড়ায় পৌছে দেবার এই মহতী উদ্যোগকে আমারা স্বাগত জানাই। আপনার এই উদ্যোগের ফলে দেশে মানবসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় পনেরো হাজার কর্মকর্তার একটি উদ্বেগ ও হৃদায়াকুতির বিষয়ে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সেটি হলো সদ্য জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের বিসিএস সাধারন শিক্ষা ক্যাডার বহির্ভূত রাখার প্রসঙ্গে।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, আপনি জানেন সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে ক্যাডার কর্মকর্তা পদে নিয়োগ লাভ কতখানি কষ্টসাধ্য বিষয়। ক্যাডারপদে নিয়োগলাভের জন্য কর্মকমিশনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া রয়েছে। এ কঠোর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিগণ অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতোই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করে থাকে। কিন্তু বিসিএস পরীক্ষা ছাড়া এবং ক্যাডার সার্ভিসের নীতিমালা অনুসরণ ব্যতিরেকে কলেজ জাতীয়করণের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট কলেজ শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত করা হলে তা হবে শিক্ষানীতি, যুক্তি ও ইনসাফের পরিপন্থী এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনে আপনার সদিচ্ছার অন্তরায়।

এর ফলে শিক্ষা ক্যাডারে বৈষম্য ও অন্তদ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেবে। জাতির উন্নয়নের যে মহান লক্ষ্যে নিয়ে আপনি কলেজগুলো জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি হবে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার সদস্যগণ কলেজ জাতীয়করণের বিরুদ্ধে নয়। জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের চাকুরি সরকারি করণেরও বিরুদ্ধে নয়। আমারা চাই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে জাতীয়করণকৃত কলজ শিক্ষকদের মর্যাদা ও অবস্থানগত একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য থাক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮৩ টি কলেজ জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারির পূর্বেই এমন একটি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিবেন। যার আলোকে জাতীয়করণকৃত কলেজসমূহের শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভূত রেখে তাদের চাকুরি ও মর্যাদা নিরূপিত হবে। এমনটিই আশা করছেন সংগঠনটির ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ।

স্মারকলিপি প্রদানকালে দিনাজপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (সমাজবিজ্ঞান) মো. রোজাইন, সহকারী অধ্যাপক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) মো. মাগফুর হোসেন, সহকারি অধ্যাপক (বাংলা) মো. জহিরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক (ইতিহাস) মো. মাজেদুর রহমান সরকার, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন ইমরান, সরকারি সিটি কলেজের প্রভাষক মিতা চক্রবর্তী এবং ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষকবৃন্দসহ প্রায় ১’শ জন ক্যাডার কর্মককর্তা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য