বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি ইরান-সমর্থিত শিয়া বেসামরিক বাহিনীগুলোর পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন।

এর আগে সৌদি আরব সফরকালে টিলারসন পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস্ (পিএমইউ) নামে পরিচিত ওই বাহিনীগুলোর সমালোচনা করে এদের ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

বিবিসি জানিয়েছে, বাগদাদ সফরকালে সোমবার রাতে টিলারসন ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতে পিএমইউকে ‘ইরাক ও ওই অঞ্চলের আশা’ বলে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী আবাদি।

এর আগে রোববার সৌদি আরবে একটি আঞ্চলিক বৈঠক চলাকালেও এই দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছিল। ওই বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে টিলারসন বলেছিলেন, ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই প্রায় শেষ হয়ে আসায় ইরান-সমর্থিত শিয়া বাহিনীগুলোকে ভেঙে দেওয়া উচিত এবং যোদ্ধাদের অস্ত্র নামিয়ে রেখে নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়া উচিত।

বিবিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিলারসন চান এসব বেসামরিক বাহিনীতে থাকা ইরাকি শিয়াদের হয় ইরাকি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হউক অথবা তারা তাদের অস্ত্র নামিয়ে রেখে বাড়িতে ফিরে যাক; অপরদিকে বাহিনীগুলোতে থাকা ইরানিরা তাদের দেশে ফিরে যাক।

চলতি বছরের প্রথমদিকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইরানের সমর্থনে ও তাদের তহবিলে শিয়া বেসামরিক বাহিনীগুলো গঠন করা হয়।

কিন্তু শুধু আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়েই নয়, সম্প্রতি পিএমইউ এর যোদ্ধারা কুর্দি বাহিনীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরকুকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণেও ইরাকি সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করেছে।

সাক্ষাৎকালে আবাদি টিলারসনকে জানান, আধাসামরিক ওই বাহিনীগুলোর সদস্যরা ইরানি নন, ইরাকি।

আবাদির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পিএমইউকে ‘ইরাক ও ওই অঞ্চলের আশা’ অভিহিত করে ‘তাদের উৎসাহিত করা উচিত’ বলে মত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এতে আরো বলা হয়, “ওই যোদ্ধারা নিজেদের দেশকে রক্ষা করেছে এবং আইএস গোষ্ঠীকে পরাজিত করতে নিজেদের উৎসর্গ করেছে।”

বাগদাদ সফর শেষে টিলারসন আফগানিস্তান যান। সেখানে তিনি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ও দেশটির প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর সঙ্গে আফগানিস্তানের যুদ্ধ শেষ করা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন।

টিলারসন জানিয়েছেন, আফগান তালেবান ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার পাকিস্তানে যাবেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য