সৈয়দপুরে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ভোগান্তির নাম হলো বিদ্যুৎ সমস্যা। এমন কোনো গ্রাহক খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি এ বিদ্যুৎ নিয়ে কোন রকম সমস্যায় পড়েননি। বর্তমানে ঘন ঘন লোডশেডিং আর লো-ভোল্টেজের কারণে, প্রায়ই মানুষকে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়। বিশেষ করে যারা ব্যবসায়ী। এ দূর্ভোগের পিছনে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব যেমন দায়ী তেমনি সাধারণ জনগণ কম দায়ী নয়।

এক শ্রেণির মানুষ একটু সুযোগ পেলেই বিদ্যুৎ অপচয়, অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়া সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। যা বিদ্যুতের মোট উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে বন্টন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই বিরূপ প্রভাব ফেলে। আর এই অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে শুধু সাধারণ জনগণেই জড়িত তা কিন্তু নয়। বিদ্যুৎ বিভাগের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এসব ঘটনার সাথে ঘনিষ্ট ভাবে সম্পৃক্ত। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই সম্পৃক্ততা বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে সবচেয়ে ভয়াবহ করে তুলেছে।

মিটার-রিডার ম্যানের দূর্নীতি, কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনিয়ম, দূর্নীতি বহিরাগত লোক দিয়ে বৈদ্যুতিক কাজকর্ম করা সংযোগ নিতে গিয়ে হয়রানি, অবৈধভাবে সংযোগ দেওয়া সব মিলিয়ে বিষিয়ে তুলেছে বিদ্যুৎ সমস্যা। বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় লোককে দেখা যায়, বড় বড় মিল কারখানায় ঘোরাঘুরি, পোল থেকে পড়ে লোকের মৃত্যু। কারো বাসার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে পাওয়া যায় না বিদ্যুতের লোকজনকে।

অনেক ছুটোছুটির পর যদি বিদ্যুতের লোকজনের দেখা মেললে দেখায় নানান অজুহাত। লোক নেই, গাড়ি নেই, সময় পেলে লোক পাঠানো হবে। এমন জগাখিচুরি অবস্থা বিদ্যুৎ বিভাগে বিরাজ করলেও সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নেয় না কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ভুগছে আর একটি বিরাট সমস্যায়। তা হলো অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল। আবার কারো কারো বিল দেওয়া হচ্ছে কয়েক মাস থেকে একই পরিমাণ।

এ বিষয়গুলো দেখে সন্দেহ জাগে বর্তমানে বিদ্যুৎ বিলে বড় ধরনের ত্রুটি অর্থাৎ ঘাপলা এ বিষয়গুলো দূর করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি বারবার কামনা করেও কোন ফল পায়নি গ্রাহকরা। গ্রাহকদের দাবী উদ্বর্ধতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য