সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দেশের কৃষি এবং কৃষক। তাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বাঁধ সেজেছে বৈরী আবহাওয়া। তিন দিনের টানা নি¤œচাপের ফলে ঝড়-বৃষ্টিতে নুইয়ে পড়েছে কৃষকের ধান ক্ষেত। এতে ঝড়-বৃষ্টিতে নুইয়ে পড়া ধান ক্ষেতের সাথে ম্লান হয়েছে কৃষকের স্বপ্ন।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং ১ পৌরসভায় মোট আবাদি জমির পরিমান ৩৩হাজার ৩শত ৩হেক্টর। আমন ধান আবাদ হয়েছে ২৯হাজার ২শত ২০হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ২৮শত ৪০হেক্টর জমিতে হাইব্রীড, ২৬হাজার ৩শত ৬৮হেক্টর জমিতে উফসি এবং ১২হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে দুই দিনের টানা নি¤œচাপের ফলে ঝড়-বৃষ্টিতে আনুমানিক ১৮শত হেক্টর জমির ধান ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে সরকারী হিসেবে ১৪ শত হেক্টর জমির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহাজাহান আলী জানিয়েছেন।

এদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ ফুটে উঠেছে। কি হবে ফসলের এমন প্রশ্ন এখন তাদের মুখে।

এ ব্যাপারে নিজপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া বানপাড়া গ্রামের মৃত সুরেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে মনোরঞ্জন রায় জানান, গত বন্যার ঘর-বাড়িসহ ক্ষেতের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার আমন চাষে জোড় পানিতে দিয়েছি। এ কারণে ১৫একর জমিতে ধান আবাদ করেছি। কিন্তু দুই দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে ৫একর জমির ধান ক্ষেত মাটির সাথে মিলিয়ে গেছে। সেখান থেকে ধান গাছ ছাড়া কোন ফলন আশা করা যায় যাচ্ছে না।

একই কথা জানালেন উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর পলাশবাড়ী গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান শাহীন। তিনি জানান, বন্যায় আমন চারা মরে যাওয়ার পর নতুন করে চারা রোপন করেছি। এতে অতিরিক্ত ঘরচ হয়েছে। এখন দুই দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে ধান ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এই অবস্থায় জমি থেকে ফসল তোলা নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল তা দুই দিনের ঝড় হাওয়া আর বৃষ্টির পানিতে তিিলয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সফট ড্রাফট এর কারণে ধান ক্ষেতের একটু সমস্যা হতে পারে। তবে এ নিয়ে কৃষকদের ভেঙ্গে পড়ার কোন কারণ নেই। এ ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ ছুটির দিনেও মাঠে রয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে নুইয়ে পড়া ক্ষেতের উন্নতি হতে থাকবে। পর্যাপ্ত রোদে ক্ষেতে অতিরিক্ত পানি শুকিয়ে যাবে এবং ধান গাছগুলি দাঁড়িয়ে যাবার সম্ভবনাই বেশি রয়েছে। তবে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে,তার পরিমান খুব সামান্য।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য