জাপানে একটি টাইফুন আঘাত হানার পর তিনজন নিহত ও প্রায় ৯০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে ল্যান নামের টাইফুনটি দেশটির শিজওকা এলাকা দিয়ে সাগর থেকে ভূভাগে উঠে আসে, এলাকাটি রাজধানী টোকিও থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ঘন্টায় ১৯৮ কিলোমিটার গতির বাতাসের বেগ নিয়ে ল্যান জাপানে আঘাত হানে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।

এই ঝড়ের প্রভাবে রোববার জাপানের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিতে অনেক এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। এতে ভূমিধস ও কোনো কোনো এলাকায় প্লাবনও দেখা দেয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বন্যার কারণে হাজার হাজার মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। কিন্তু রাজধানী টোকিও পার হওয়ার সময়ই টাইফুনটি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে তা ফের খোলা সাগরের দিকে এগিয়ে যায়।

ল্যানের কারণে সোমবার ৫০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়, পরদিন সোমবার বাতিল হয় আরো ৩০০টি ফ্লাইট।

ঝড়ের কারণে রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় অনেক যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে ছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। সোমবার সকালের কিছু এক্সপ্রেস সার্ভিস ও কিছু ফেরি সার্ভিস বাতিল করা হয়েছে।

ল্যানের তাণ্ডবে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে ও এখন নিখোঁজ রয়েছেন।

ফুকোওকায় নির্মাণাধীন ভবনের মাচার আঘাতে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি এবং ঝড়ের কবলে পড়া বোট থেকে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়া ৭০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি মারা যান। ভূমিধসে বাড়ি চাপা পড়ে তৃতীয় আরেকজন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

দেশটির এনএইচকে টেলিভিশন জানিয়েছে, টোকিও থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তরে কোরিয়ামা শহর থেকে ৮০ হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিকটবর্তী একটি নদীর পানি তীর ছাপিয়ে যাওয়ার পর নির্দেশটি দেওয়া হয়।

অপরদিকে পশ্চিম জাপানে কয়েকশত ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য