রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকেঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সাংবাদিক নামধারী খাজানুর হায়দার লিমন ও তার সহযোগী মোতালেব গোসেনের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজিসহ তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল। আজ রোববার এই অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ী থানার এসআই আক্কেল আলী।

চাঁদাবজিসহ তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা মামলার অভিযুক্ত সাংবাদিক নামধারী খাজানুর হায়দার লিমন, ফুলবাড়ী পৌর এলাকার পুর্ব কাটাবাড়ী নয়াপাড়া গ্রামের আহের উদ্দিনের ছেলে ও মোতালেব হোসেন একই উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দক্ষিন বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত মহির হাজির ছেলে।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ নাসিম হাবিব বলেন, সুনামধারী পেশাদার সাংবাদিক মোঃ রজব আলীকে সামাজিক ভাবে হেযপ্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে, সাংবাদিক নামধারী খাজানুর হায়দার লিমন ও তার সহযোগী মোতালেব হোসেন যোগসাজসে, তাদের ব্যবহারীত মাইনিং সিটি নামে একটি ফেইজবুক ওয়ালে, সাংবাদিক রজব আলীর নামে মিথ্যাা বানোয়াট কূরুচিপূন্ন উক্তি ও সাংবাদিক মোঃ রজব আলীল একটি বিক্রিত ছবি পোষ্ট করে। একই সাথে আরো কূরুচিপুন্ন সংবাদ পরিবেশন করার হুমকি দেয়।

এছাড়া সাংবাদিক রজব আলীর সহকর্মির মাধ্যমে মানহানীকর সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে, প্রকাশ্যে ২০ হাজার টাকা চাঁদাদাবী করে। এই ঘটনায় সাংবাদিক রজব আলী বাদি হয়ে, সাংবাদিক নামধারী খাজানুর হায়দার লিমন ও তার সহযোগী মোতালেব হোসেনকে আসামী করে, চলতি সনের গত ২০মে, ফুলবাড়ী থানায় চাঁদাবাজীসহ তথ্য প্রযুক্তি সংশোধনী/১৩ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দির্ঘ তদন্ত করে, বাদি সাংবাদিক মোঃ রজব আলীর দায়ের করা মামলাটি সম্পুর্ন সত্য হিসেবে তথ্য প্রমান পাওয়ায়, আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জসীট) আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আক্কেল আলী বলেন, আসামী খাজানুর হায়দার লিমনের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করতে গিয়ে জানা গেছে , খাজানুর হায়দার লিমন ইতোপূর্বেও মানহানীকর সংবাদ প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে একাধিক ব্যাক্তির নিকট চাঁদাবী করার প্রমান পাওয়া গেছে, এই কারনে তার বিরুদ্ধে, ফুলবাড়ী থানা ও পার্শবর্তি থানায় একাধিক চাঁদাবাজীর মামলা ও জিডি দায়ের হয়েছে, যা এই মামলার অভিযোগপত্রের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্য্যলয় সুত্রে জানা গেছে, বনের গাছ চুরির দায়ে, গত ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তৎকালিন বনকর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম দোলন বাদি হয়ে, খাজানুর হায়দার লিমনের বিরুদ্ধে একাধিক গাছ চুরির মামলা দায়ের করেছে।

মামলার বাদি সাংবাদিক মোঃ রজব আলী বলেন, খাজানুর হায়দার লিমন সুধু তার নিকট চাঁদাদাবী করেননি, এটি তার পুরোনো ব্যবসা। ফুলবাড়ী শহরের ব্যবসায়ী রাজু কুমার গুপ্তর নিকট মানহানীকর সংবাদ প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাদাবী করে, এই ঘটনায় ব্যবসায়ী রাজু কুমার গুপ্ত বাদি হয়ে, গত ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর ফুলবাড়ী থানায়, খাজানুর হায়দার লিমনের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেছেন, যার মামলা নং ৪। ফুলবাড়ী উপজেলার পার্শবতী নবাবগঞ্জ উপজেলার সততা ইটভাটা মালিক আমিনুল ইসলামের নিকট মানহানীকর সংবাদ প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদাদাবী করেন, এই ঘটনায়, সততা ইটভাটা মালিক গত ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর নবাবগঞ্জ থানায খাজানুর হায়দার লিমনকে আসামী করে একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং ২১।

এছাড়া খাজানুর হায়দার লিমন নিজেকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয দিয়ে প্রতারনা করার কারনে, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ফুরবাড়ী প্রতিনিধি ও ফুলবাড়ী প্রেস ক্লাবের সভাপতি অমর চাঁদ গুপ্ত অপু বাদি হয়ে গত ২০১২ সালের ২৮ জানুয়ারী, ফুলবাড়ী থানায খাজানুর হায়দার লিমনের বিরুদ্ধে একটি জিডি দায়ের করেন, যার জিডি নং ৯৫০।

ইতোপুর্বেও তার নিকট চাঁদাদাবী করে না পেয়ে, একাধিকবার সাপ্তাহিক ফুলবাড়ী বার্তা নামে একটি স্থানীয় পত্রিকায় তার নামেসহ একাধিক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মানহানীকর সংবাদ প্রকাশ করেছে, এজন্য তিনিসহ একাধিক ব্যাক্তি একাধিকবার ফুলবাড়ী থানায় জিডি দায়ের করেছেন, এজন্য খাজানুর হায়দার লিমনএকাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট নিজের দোষ স্বীকার করে মাফ চেয়েছে। এই সকল প্রমানাদি আদালতে পেশ করা হযেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য