04_John-Kerry-to-Meet-With-Russian-Lavrov-ইউক্রেন সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি মস্কোকে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে তাদের সৈন্য প্রতাহারের আহবান জানিয়ে বলেছেন, তারা সেখানে ‘ভীতিকর পরিবেশ’ সৃষ্টি করছে। তবে দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এর আগে প্যারিসে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূূতের বাসভবনে কেরি ও রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ চার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। বৈঠকে ‘খোলাখুলি’ ও ‘গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে অনেকটা আকস্মিকভাবে ফোন করেন। এরপর স্নায়ুযুদ্ধোত্তর সময়ে ইউক্রেন নিয়ে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য অচলাবস্থা দূর করতে কেরি-লাভরভের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বলেছে, তারা ইউক্রেনের ব্যাপারে একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে আগ্রহী। গত ফেব্র“য়ারিতে ইউক্রেনের মস্কোপন্থী সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে সংকট শুরু হয়। এরপর এক গণভোটের ভিত্তিতে ক্রিমিয়া ইউক্রেন থেকে আলাদা হয়ে রুশ ফেডারেশনে যোগ দেয়ার পর সংকট আরো তীব্র হয়। আর এ সংকট নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেয় রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্ব। উভয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞ আরোপ করে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, প্যারিসে কেরির সঙ্গে বৈঠকটি ছিল ‘গঠনমূলক’ এবং আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি ফের দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, রাশিয়া মনে করে ইউক্রেন একটি ফেডারেল রাষ্ট্র হোক। খবর এএফপি’র।
কেরি বলেন, বৈঠকে মস্কোর দেয়া পরিকল্পনা খতিয়ে দেখবে ওয়াশিংটন। তবে তিনি গুরুত্বারোপ করেন, মার্কিন প্রশাসন বিশ্বাস করে, ‘রাশিয়ার পদক্ষেপ অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য’। তিনি ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে রাশিয়ার সৈন্য প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে বলেন, আগামীতে ইউক্রেন নিয়ে যেকোন বৈঠকে অবশ্যই কিয়েভের নেতৃবৃন্দকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
কেরি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনার টেবিলে ইউক্রেনের বৈধ সরকার ছাড়া কোন সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে ইউক্রেন নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নয়।’ তিনি বলেন, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে রাশিয়া সৈন্য প্রত্যাহার করলে তা একটি অগ্রগতি হিসেবে ধরা হবে। তিনি আরো বলেন, ওয়াশিংটন মনে করে, রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেন সীমান্তে ‘ভীতিকর পরিবেশ’ সৃষ্টি করছে। তবে লাভরভ রাশিয়ার সৈন্য সম্পর্কে টু শব্দও করেননি। উভয় পক্ষ তাদের মধ্যে এখনও অনৈক্যের কথা স্বীকার করেন। কেরি বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ভাষার অধিকার নিশ্চিত এবং মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করা ও আগামী মে মাসে একটি অবাঁধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে কিয়েভের অন্তবর্র্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করবে ওয়াশিংটন। লাভরভ বলেন, ‘আমাদের ইউক্রেনের অঞ্চলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য ও সমঝোতা খুঁজতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য