মোঃ লিহাজ উদ্দীন মানিক, বোদা (পঞ্চগড়) থেকেঃ বন বিভাগসহ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে অস্থিত্ব সঙ্কটে পড়েছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলই শালশিড়ির ঐতিহ্যবাহী শালবাগানটি। দীর্ঘ দিন ধরে বাগানটির রক্ষণাবেক্ষনে সংশ্লিষ্টদের উদাশীনতায় মূল্যবান শাল গাছসহ মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি সুবিধাবাদী চক্র।

এতে দিন দিন এই শাল বাগানটির গাছের সংখ্যা এবং আয়তন কমে আসছে। স্থানীয়রা জানায়, এক সময় গাছগুলো এত মোটা ও ঘন ছিল বাগানের এপাশ থেকে ওপাশে দেখা যেত না। দুস্কৃতিকারীরা গাছগুলো রাতের আধারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। একের পর এক গাছ কেটে নিয়ে গেলেও কোন প্রকার আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে বর্তমানে এর মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

স্থানীয় এলাকার মানুষ মাটির ঘর মুছতে মাটি কেটে নিয়ে যেতো। এরপর রাস্তা মেরামতের জন্যও শালগাছ নষ্ট করে বাগানের মাটি কেটে রাস্তায় দেওয়া হয়। এই শাল বাগানের বেহাল অবস্থা দেখে কথা হয় জেলা বন বিভাগের এক কর্মকর্তার সাথে। সরকারি একটি বন ভুমি থেকে কেন মানুষজন মুল্যবান গাছ ও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ! এর আয়তন কত? কাগজে-কলমে গাছের সংখ্যা কত? এই বাগানটির আদি পরিচয় কি? ইত্যাদি।

এসব প্রশ্নের উত্তরে তিনি এক কথায় শেষ করলেন এটা বন বিভাগের জমি বা সম্পত্বি নয়। বনবিভাগের কাছে শাল বাগানের কোন তথ্য নেই। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে শাল গাছ চুরিতে উঠে পড়ে লেগেছে একটি সুবিধাবাদী কুচক্রি মহল। এ ব্যাপারে ঝলইশালশিড়ি ইউ,পি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেন জানান, এই শাল বাগানটি ব্যক্তি মালিকানা হিসেবে আগে ছিল। এ বছর এক নম্বর খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

গাছ চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর কঠিন পদক্ষেপ নিয়ে গাছ চুরি বন্ধ করেছি। শালবাগানটি আবার সবুজ ঘন হয়ে বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। বাগানটিকে পরিপূর্ণতা দিতে বাগানের গর্তগুলো মাটি দিয়ে পূরণ করে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করার ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি। স্থানীয় যুব সমাজ ও সচেতন মহলের দাবী বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রায় মূল্যবান এই শাল বাগানটি রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা উচিৎ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য