প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাপানের সাধারণ নির্বাচনের জরিপে এগিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নেতৃত্বধীন ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ।

দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলটি ফের জয়ী হতে যাচ্ছে বলে দেশটির গণমাধ্যমগুলোর জরিপে আভাস পাওয়া গেছে; জরিপের ফলাফলের মতো রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও একই ধারণা পোষণ করছেন।

তবে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববারের নির্বাচনের আগে বড় ধরনের টাইফুনের সর্তকতা জারির পর শনিবার দুপুর থেকে ভোটাররা ভোট প্রদানের সুবিধা পাচ্ছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সংসদের নিম্নকক্ষের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব আসেন।

‘আবেনোমিক্স’ বা ‘আবেতত্ত্ব’ দেশটির অর্থনীতিকে আরো বেশি চাঙ্গা করবে বলে আবের দলের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হলেও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বৃদ্ধি, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ধসের কারণে চলতি বছর আবের জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আবে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

জাতীয় এই নির্বাচনে প্রধানত তিন জোটবদ্ধ দল প্রতিযোগিতা করছে। ক্ষমতাশীন এলডিপির শরিক হয়েছে কুমেতো, এলডিপি থেকে বের হয়ে টোকিওর প্রথম নারী গর্ভনর ইরিকো কইকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিবো জোটের, পাশাপাশি প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টির (ডিপি) নেতৃত্বাধীন জোটও লড়াইয়ে আছে।

ক্ষমতায় যেতে হলে সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫ টি আসনের মধ্যে দুই তৃতীংশ বা ২৩৩ আসন পেতে হবে। ক্ষমতাসীন এলডিপি ৩০০ টি আসন পেতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়র্টাসের জরিপে বলা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জরিপে অংশ নেয়া ভোটারদের ৯৪ শতাংশ বিশ্বাস করেন তৃতীয় মেয়াদেও ক্ষমতায় থাকবেন শিনজো আবে।

নিজেদের এক জরিপের ফলাফলেও একই ধরনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রাচীনতম পত্রিকা ইয়ুমরি শিম্বুন। পত্রিকাটি বলছে ২৮৯ টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে এলডিপি ফের ক্ষমতায় যাচ্ছে, আর এলডিপির শরিক দল কুমেতো ৩৪ টি আসন পেতে পারে।

জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনের এককালের প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্রেটিক পার্টি সম্প্রতি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে, নির্বাচনে এর পুরো ফায়দা তুলতে পারে এলডিপি।

এর আগে গত বছর দেশটির উচ্চকক্ষের নির্বাচনেও শিনজো আবের দল সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করেছিল। ওই সময় শিনজো আবের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) জোট উচ্চকক্ষের ২৪২ আসনের মধ্যে ১৪৪ টি আর বিরোধীরা ৭৩ টি আসন পেয়েছিল।

এর আগের সাধারণ নির্বাচনের ভোটারদের নূন্যতম বয়স ২০ বছর থাকলেও এই প্রথমবারের মতো সরকার ভোটারদের নূন্যতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য