মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ দিনে ভালো চিত্র দেখা গেলেও রাতে পাল্টে যায় ব্রিজের চিত্র। দিনের বেলা থাকে আলো আর রাতে থাকে গুজ গুজ অন্ধকার। তাই চলতে অসুবিধা হয় অনেকের। এমনি ২টি ব্রিজ ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন ও সেনুয়া ব্রিজ।

রাত হলেই ওই ব্রিজগুলো চলে যায় ছিনতাইকারীদের দখলে বলে অভিযোগ অনেকের। তাই রাতে অনিরাপত্তার কারণে এই ব্রিজের পাশে যেতে ভয় পায় পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের নাম করা ২টি ব্রিজের মাথায় নেই কোন আলোর ছায়া। দিনে মানুষের পদচারণায় মুখরিত ঠাকুরগাঁওয়ের এই ব্রিজগুলো রাতে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যার প্রধান কারণ পতিতাদের আহ্বানে সম্মান হারানো আর ছিনতাইকারীদের হাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেড়ে যাওয়ার ভয়।

শুক্রবার রাতে ব্রিজের ধারে গিয়ে দেখা যায়, শহরের জেল গেটের পিছনে অবস্থিত টাঙ্গন ব্রিজের মাঝে নেই কোন আলোর ছায়া। অন্ধকারে শুধু শোনা যাচ্ছে কিছু মানুষের কথা বার্তায় শব্দ। সে সময় সেই পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অনেকে হচ্ছে ছিনতাইয়ের শিকার। ফলে অনেকে ওই ব্রিজে পাশ দিয়ে যেতে পায় ভয় অনেকে। অপরদিকে একই অবস্থায় রয়েছে আরেকটি নাম করা ব্রিজ সেনুয়া ব্রিজ।

সেনুয়া ব্রিজে কথা হয় এক ব্যবসায়ির সাথে তিনি জানান, যত তারাতাড়ি সম্ভব বাসায় চলে যাই। কারন বেশি রাত হলে বাসায় যাইতে সমস্যা হয়। এই ব্রিজের উপরে নানা রকমের খারাপ ছেলেরা বসে আড্ডা দেয়।

বরুনাগাঁও এলাকার বাসিন্দা রামবাবু জানান, ব্রিজের ঐ পারে আমি ছোট খাটো একটি ব্যবসা করি। বাসায় আসতে কোন সময় দেরি হয়। ব্রিজের উপরে দিয়ে আমাকে আসতে লাগে । কিন্তু ব্রিজের নেই কোন লাইট। কখন যে কি হয়।

রাস্তায় চলার পথে কথা হয় আরিফ হোসেন নামে এক পথচারির সাথে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমি ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছি। তখন বাজে হয়তো রাত ১০টা। এমন সময় আমি সেনুয়া নদীর পাশ দিয়ে বাসায় যাবার পথে কিছু ছেলেরা আমার কাছে এসে আমার কাছ থেকে আমার টাকা পয়সা মোবাইল ফোন কাড়ে নেয়। জীবন বাঁচার তাগিয়ে আমি তাদেরকে সব কিছু দিতে বাধ্য হই। আলো না থাকার কারনে কাউকে চিনতে পারিনাই।

ঠাকুরগাঁও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন জানান, পৌর এলাকায় আমরা রাতের বেলায় রাস্তায় বাতি ব্যবহার করছি। দ্রুত ব্রিজে লাইট লাগানো ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, শহরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সব সময় সজাগ থাকে। প্রতিদিন এসব এলাকায় পুলিশী টহলের ব্যবস্থা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য