বিরলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বিরল জোনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারী নিয়মনীতি কে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে গভীর নলকুপ স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পূর্ণভবা নদী থেকে আরেকটি গভীর নলকূপের দূরত্ব বজায় না রেখে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিরল জোনের তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী এস এম মিজানুর রহমান অগভীর নলকূপ মালিকদের বাঁধা নিষেধ উপেক্ষা করে ওই সব গভীর নলকূপ স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা করে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ।

অগভীর নলকূপের মালিকরা নিরুপায় হয়ে সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে স্থাপিত গভীর নলকুপে বিদ্যুৎ সংযোগে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে জেলা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, দিপবিস-১, উপজেলা সেচ কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করে পৃথক ৩ টি মামলা দায়ের করেন। ৭৬/২০১৬ (অন্য) নং- মামলার বাদী আব্দুল হাকিম, ৭৭/২০১৬ (অন্য) নং- মামলার বাদী মামুনুর রশিদ এবং ৭৮/২০১৬ (অন্য) নং- মামলার বাদী রাসেল আলী ওরফে বুধু। পৃথক পৃথক মামলাগুলো এখনো বিচারাধীন রয়েছে বলে বাদীরা জানান।

অবৈধকে বৈধ করার চেষ্টায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিরল জোনের সহকারী প্রকৌশলী (অঃ দাঃ) ইকবাল হোসেন ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত যার স্মারক নং-বিএনমডিএ/সঃ প্রঃ/বিরল/২০১৭-১৮/৩৬৬ গভীর নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য দিপবিস-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে আবেদন করেছেন।

বিরল উপজেলার পলাশাবাড়ী ইউনিয়নের আগ্রা গ্রামের মরহুম আলহাজ্ব আবুল হোসেনের পুত্র উসমান গনি কাগজ কলমে আগ্রা মৌজার ৮৯৯ নং দাগে গভীর নলকূপ স্থাপনের কথা উল্লেখ থাকলেও সরকারী নিয়ম উপেক্ষা করে পূর্ণভবা নদী সংলগ্ন ৯২৫ দাগের জমিতে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ গভীর নলকূপ স্থাপন করে।

বিএমডিএ নিয়মানুযায়ী একটি থেকে আরেকটি গভীর নলকূপের দুরত্ব সর্বনি¤œ ২৫০০ ফুট এবং নদী থেকে ৩৫০০ ফুট। কিন্তু নিয়মানুযায়ী ওই ৩টির একটিও গভীর নলকূপ স্থাপন করেনি বিএমডিএ। পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বুজুরুক বসন্তপুর গ্রামের আনসার আলীর পুত্র আব্দুল হাকিম দীর্ঘদিন থেকে পূর্ণভবা নদী থেকে পানি উত্তোলন করে প্রায় ২০ একর আবাদী জমিতে সেচ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

পলাশবাড়ী ইউনিয়নের আগ্রা মৌজার ৮৫৬ দাগে ব্যাক্তি মালিকানাধীন গভীর নলকূপ স্থাপন করে সেচ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

ধুলাতৈর গ্রামের আব্দুল কাদেরের পুত্র মামুনুর রশিদের বড়বৈদ্যনাথপুর মৌজার ২৫০৩ নম্বর দাগে অগভীর নলকূপ থাকার পরও মাত্র ১৪৩০ ফুট দুরে বসন্তপুর মৌজার ৭০ দাগে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ ১টি, ধর্মপুর গ্রামের আবেদ আলীর পুত্র রাসেল আলী ওরফে বুধুর মালিকানাধীন অগভীর নলকূপ থেকে মাত্র ৮৫০ ফুট দুরে ১ টিসহ ৩ টি গভীর নলকূপ নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থাপন করে বিএমডিএ।

ধর্মপুর ইউনিয়নের কোমলপুর গ্রামের মৃত আহসান আলীর পুত্র আনসার আলী নামে কাগজ কলমে ধুলাতৈড় মৌজার ৪৮৭ নং দাগে স্থাপনের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ৮৯২ নং দাগে গভীর নলকূপটি স্থাপন করা হয়।

বিএমডিএ বিরল জোনের তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী এস এম মিজানুর রহমান কোন রকম সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে একাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করে অবৈধভাবে সরকারী অর্থ তছরুপ করেছেন বলে ভূক্তভোগিদের অভিযোগ।

আগ্রা, বুজরুক বসন্তপুর, বড় বৈদ্যনাথপুর ও ধুলাতৈড় মৌজার সকল আবাদী জমি ব্যাক্তি মালিকানাধীন গভীর ও অগভীর নলকূপের আওতায় থাকার পরও অপরিকল্পিতভাবে এসব গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যাক্তিমালিকানাধীন গভীর ও অগভীর নলকূপের মালিকগণ বিএমডিএ’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন।

বিএমডিএর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সরজমিনে সুষ্ঠ্য তদন্ত করলে বিরল জোনের তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী এস এম মিজানুর রহমানের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি বেরিয়ে আসবে বলে এলাকাবাসি বিভাগীয় উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য