সকল অবকাঠামো বিদ্যমান থাকা সত্যেও চিলাহাটির স্থলবন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘদিন থেকে ঝুলে আছে। গত ২০১৩ সালের আগষ্টের শেষ সপ্তাহে চিলাহাটি স্থলবন্দরটি মন্ত্রীসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। ঐ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহ্জাহান খানের স্থলবন্দরটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। এজন্য দুইশত তিন কোটি টাকা ব্যায়ে চিলাহাটি রেলস্টেশন পর্যন্ত ব্রটগেজ রেলপথে আধুনিকায়ন করা হয়। চিলাহাটি থেকে খুলনা, রাজশাহী, ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র রেল যোগাযোগ চালু রয়েছে।

চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ী পর্যন্ত রেলপথ পূন:স্থাপনের উদ্দ্যোগটিও আলোচনায় রয়েছে। ভারতের দলদিবাড়ী পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের উদ্দ্যোগও রয়েছে। চিলাহাটি থেকে সড়ক-মহাসড়ক যোগাযোগ বিদ্যমান রয়েছে। চিলাহাটিতে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, চেকপোস্ট, বি.জি.বি হেডকোয়াটার, খাদ্য গুদামসহ সকল অবকাঠোমো এখানে বিদ্যমান।

২০১১সালের ১৯ শে জুন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান চিলাহাটি স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন সে সময় চিলাহাটি স্থলবন্দরের পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক চেকপোস্ট পুনরায় চালুর বিষয়টির প্রতি তিনি গুরুত্বদেন। ব্রিটিশ শাসন আমল থেকেই চিলাহাটি চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত চালু ছিল। হঠাৎ ২৮শে জুন ২০০২ সালে আকষ্মিক ভাবে চিলাহাটি চেকপোস্টটি বন্ধকরে দেয়া হয়। দেশে প্রায় ১৭টি স্থলবন্দরের মধ্যে মুলত ৭/৮টি স্থলবন্দর সচল। বাকী স্থলবন্দরগুলোতে আমদানী রপ্তানী কম। দর্শনা স্থলবন্দর বন্ধ হয়ে চালু রয়েছে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম। সে হিসাবে চিলাহাটি স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সেখানে উঠে আসে স্থলবন্দর চালুর পাশাপাশি ঢাকা থেকে শিলিগুড়ী পর্যন্ত চিলাহাটি হয়ে সরাসরি মৈত্রী ট্রেন চলাচলের বিষয়। নীলফামারী স্থলবন্দর সমিতির নেতারা জানান, সকল অবকাঠামো বিদ্যমান থাকা সত্তেও চিলাহাটি স্থলবন্দর ফাইলটি লালফিতায় বন্দী। এব্যাপারে নেতারা সরকারের আশু দৃষ্টি কামনা করছেন।

বর্তমানে চিলাহাটি থেকে ৬টি আন্ত:নগর ট্রেন চলাচল করছে।এছাড়া মংলা বন্দর থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত পাকা রাস্তা ও অত্যাধুনিক রেলপথ স্থাপনের পর বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সাথে বানিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধির কথা উঠে আসে পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার আমদানী-রপ্তানীকারক ও শিল্প উদ্দ্যেগক্তা উত্তরা ইপজেট ও দাড়োয়ানী টেক্সটাইল মিল বিনিয়োগ এবং ব্যাবসা বানিজ্যে আগ্রহী হবেন এবং স্থলবন্দরটি ডোমার উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে।

নীলফামারীতে উত্তরা ইপিজেড, দাড়োয়ানী টেক্সটাইল মিল ও দেশের একমাত্র সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা শিল্পায়নের দ্রুত বিকাশসহ হাজার হাজার বেকার র্কমহীন মানুষের কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে সড়ক পথের চেয়ে রেলপথকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন আমদানী ও রপ্তানীকারকগণ। সে ক্ষেত্রে লালমণির হাট ও পঞ্চগড়ের বাংলা বান্দার চেয়ে চিলাহাটি স্থলন্দর ও আর্ন্তজাতিক চেকপোস্ট চালুর বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল মন্ত্রীসভায়। কিন্তু এত কিছুর পরেও আজও চালু হয়নি চিলাহাটি স্থলবন্দর ও আর্ন্তজাতিক চেকপোস্টটি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য