অস্ট্রেলিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

নিজেকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে দিতে পারে, চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ হুমকিও প্রত্যাখান করার কথা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

পিয়ংইয়ং সুপ্রিম অ্যাসেম্বলির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি স্বাক্ষরিত এক পৃষ্ঠার চিঠিটি ইন্দোনেশিয়ার উত্তর কোরীয় দূতাবাস থেকে ক্যানবেরার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে খবর বিবিসির। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল গত বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার চিঠিটি পাওয়ার কথা জানান। অন্যান্য দেশেও এরকম চিঠি পাঠানো হতে পারে বলে তার সন্দেহ।

একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর দেওয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ কাজ করছে, চিঠিটি তার স্বীকৃতি বলেও মন্তব্য অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে লেখা চিঠিটিকে ‘মামুলি গলাবাজি’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি।

টার্নবুল জানান, উত্তর কোরিয়ার চিঠিতে ‘ট্রাম্প প্রশাসনের জঘন্য ও বেপরোয়া কর্মকা-ের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অন্যান্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

‘ভয়াবহ পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের’ জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী থাকবে বলেও এতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

টার্নবুলের অভিযোগ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হুমকি দিয়ে পিয়ংইয়ং এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

“তারা সার্কুলারের মতো এই ধরণের চিঠি আরও অনেক দেশে পাঠিয়েছে,” স্থানীয় রেডিও স্টেশন থ্রিএডব্লিউকে এমনটাই বলেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী।

উত্তর কোরিয়ার এই চিঠিকে ‘অকল্পনীয়’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী জুলি বিশপ।

কূটনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার সুর নরম হয়েছে ধারণা করে সঙ্কট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব আরও এগিয়ে আসবে বলেও আশা তার।

অস্ট্রেলিয়াকে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে দূরে থাকতে আগেও বলেছে উত্তর কোরিয়া।

গত সপ্তাহে ক্যানবেরাকে হুঁশিয়ার করে পিয়ংইয়ং বলেছে, কিম জং উনের শাসনের ব্যাপারে মার্কিন নীতি অনুসরণ করলে অস্ট্রেলিয়া ‘বিপর্যয় এড়াতে পারবে না’।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য