আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। কীটনাশক ব্যবহার করেও মিলছে না সমাধান! ফলে বাধ্যহয়েই পরামর্শ নেওয়ার জন্য ছুটছেন কীটনাশকের দোকানগুলোতে। নাবুঝে কীটনাশক দোকানিরাও দিচ্ছেন যেন তেন দায়সারা পরামর্শ দিয়ে কৃষকের হাতে তুলে দিচ্ছেন নামি বেনামি কোম্পানির কীটনাশকের ফাইল। তাতেও সুফল মিলছে না কৃষকের। তাই বাধ্য হয়ে দোষারফ করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের।

অভিযোগ রয়েছে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে, তারা কৃষকদের জমিতে গিয়ে কোন ধরনের পরামর্শই দিচ্ছেন না। কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকির বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাজ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি তারা কাজ না করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খোলাহাটী ইউনিয়নের কৃষক রেজাউন্নবী জানান, পোকার আক্রমণে আমন ধানের পাতা মরে কোকরা হয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে এবং ধানের শীষ বের হচ্ছে না। ধান গাছের পাতা ও থোরে এক শ্রেণির পোকা বাসা বাধতে দেখা গেছে। এতে আক্রান্ত জমির ফলন ক্ষেত্র বিশেষ ৬০-৭০ ভাগ বিনষ্ট হবে।

ঘাগোয়া ইউনিয়নের কৃষক মেছের আলী জানান, ধানের পাতাগুলো কোকরা হয়ে সাদা হয়ে যাওয়ায় তা কেটে গরুর খাবার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এবার শুরুতেই যে খড়ের দাম হয়েছে তাতে মনে হয় গরু বিক্রি করা ছাড়া কোন উপায় নেই।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে রোপা আমন ধানের খেতে ব্যাপক হারে পোকার আক্রমণ হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে কাঙ্খিত ধান উৎপাদন মারাত্মক ভাবে ব্যহত হবে বলে ধারণা কৃষকদের। এ ঘটনায় আমন চাষিরা দিশেহারা।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম জানান, এবার চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৭’শ ৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাপকভাবে পোকার আক্রমণে কাংঙ্খিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য