কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি) কখনোই ইরাকি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চায়নি বলে জানিয়েছেন কেআরজির পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী ফালাহ মুস্তাফা বাকির।

ব্রডকাস্টার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সাক্ষাৎকারে বাকির বলেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কেআরজির সঙ্গে ইরাকের সংলাপ হওয়া প্রয়োজন।

বাগদাদের সঙ্গে কেআরজির বিরোধ তেল অথবা জাতীয় পতাকা নিয়ে নয় বরং দুটি জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে, এক মন্তব্যে দাবি করেছেন তিনি।

ইরাকের স্বায়ত্ত্বশাসিত কুর্দিস্তানের বাসিন্দা কুর্দিরা গত ২৫ সেপ্টেম্বরে বাগদাদের নিষেধ উপেক্ষা করে স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট করেছে। গণভোটে ব্যাপক সাড়া দিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে কুর্দিরা।

কিন্তু ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি এ গণভোটকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছেন। অপরদিকে কেআরজি এ ভোটকে বৈধ বলে দাবি করেছে।

ইরাকের প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক ও ইরানও এ গণভোটের বিরোধীতা করে কেআরজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

গণভোটের পর সৃষ্ট টানাপোড়েনের মধ্যেই কিরকুকের তেলখনি, সামরিক স্থাপনা ও বিমান ঘাঁটি বাগদাদ না কেআরজির দখলে থাকবে তা নিয়ে হিসাবনিকাশ শুরু হয়।

রোববার বাগদাদের চাওয়া অনুযায়ী কেআরজির নেতারা গণভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর জেরে দুপক্ষের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর শিয়া বেসামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় ইরাকি বাহিনী কিরকুকের দখল নিতে অগ্রসর হয় এবং প্রায় ‘বিনা বাধায়’ কিরকুকের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়।

এরপরই কিরকুক এবং আশেপাশের অন্যান্য বিরোধপূর্ণ এলাকায় ইরাকি পতাকা উড়িয়ে রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী আবাদি।

পেশমেরগা হিসাবে পরিচিত কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনীকে শান্তি বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বার জানিয়েছে বাগদাদ। অপরদিকে কেআরজি বলেছে, কুর্দিস্তানের জনগণের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য বাগদাদকে চরম মূল্য দিতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য