ইভান চৌধুরী; বেরোবি, রংপুর থেকেঃ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় আট মাস পরেও অজ্ঞাত কারণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোতে শিক্ষক সংকটে তীব্র সেশন জটের সৃষ্টি হলেও শিক্ষক নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তেমন তৎপরতা নেই।

জানা যায়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারী বিভিন্ন গণমাধ্যমে ১৫টি বিভাগে ২৫ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে আবেদনও করেন অনেকে। ১৫ বিভাগের মধ্যে ৭ টি বিভাগের নিয়োগ বোর্ডও সম্পন্ন হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় ৫০দিন পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষনের বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় গত ২ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান।

রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ব্যত্যয় ঘটানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্টারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

গত ৩ জুলাই হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তীতে শিক্ষক নিয়োগে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পদ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল।

এদিকে শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ায় বিভাগগুলোতে বাড়ছে সেশনজট। স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক বিভাগগুলোর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। একজন শিক্ষককে বিভাগের ৬-৭ টি করে ব্যাচের প্রায় ১০-১২ টি করে কোর্সের ক্লাস নিতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে সেমিস্টার শেষ করতে পারছে না বিভাগগুলো। এতে কয়েকটি বিভাগে বেশ নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে।

এর আগে চলতি মাসের ৮ অক্টোবর বিজ্ঞাপিত এই ২৫ পদে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের মূল কারণ শিক্ষক সংকট। ফেব্রুয়ারিতে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে অনেক আগেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। তবে তা হয়নি। এখন অতিদ্রুত বিজ্ঞাপিত পদগুলোর নিয়োগ দেয়া দরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইবরাহীম কবীর বলেন, নানান ব্যস্ততার কারণে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার আগেই ৭ টি বিভাগে বোর্ড হয়েছে। ৮ টি বিভাগ বাকি আছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য