আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ২য় বিয়ে করার দায়ে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাহ গরীবুল্ল্যাহ বালিকা বিদ্যালের শিক্ষক আশরাফুল আলম খান বকুল সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার এক ছাত্রীকে কয়েকদিন আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঘরে তোলার পরপরেই ফুঁসে উঠে শিক্ষার্থীরা।

তারা ওই শিক্ষকের ক্লাস করবেন না বলে ঘোষণা দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। অন্যদিকে অভিভাবকরাও শিক্ষক বকুলের নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে আর ওই স্কুলে আর পড়াবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে অবস্থা বেগতিক দেখে স্কুল পরিচালনা কমিটি এক জরুরি সভায় আশরাফুল আলম খান বকুল নামের ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।

এদিকে ওই শিক্ষকের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবাও তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রধান শিক্ষকের কাছে। পাশাপাশি ওই স্কুলে অধ্যায়নরত তার অপর মেয়েকে সেখানে আর পড়াবেন না বলে ছাড়পত্র নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ক্ষোভে দুঃখে ওই ছাত্রীর পরিবার ইতোমধ্যে হাতীবান্ধা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, হাতীবান্ধা শাহ গরীবুল্ল্যাহ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল আলম খান বকুলের স্ত্রী সন্তান সবেই আছেন। তার ছেলেও সম্প্রতি বিয়ে করেছে। এরপরেও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এক ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠে আসছিল। কিন্তু বরাবরেই তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। এমনকি মেয়েটি স্কুল ছেড়ে কলেজে পড়াশোনা শুরু করলেও সেই সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন তিনি।

সম্প্রতি ওই ছাত্রী এইচএসসি পাশের পর রংপুরে কোচিং করছিল। এরই ফাঁকে গত কয়েকদিন আগে সেই ছাত্রীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঘরে তুলে শিক্ষক আশরাফুল আলম বকুল। বিষয়টি জানাজানি হলে ফুঁসে উঠে তার কর্মস্থল হাতীবান্ধা শাহ গরীবুল্লাহ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রায় সহস্রাধিক ছাত্রী। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে সমালোচিত শিক্ষক বকুলের নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে ক্লাস বর্জন শুরু করে শাহ গরীবুল্লাহ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা।

এক পর্যায়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির জরুরি বৈঠকে তাকে সাময়িক বহিস্কার করা হলে ছাত্রীরা আবারও ক্লাস শুরু করে। কয়েকজন ছাত্রী জানান, বকুল স্যার যা করেছেন, তা সভ্য সমাজের যেকোনো মানুষরই কাছে বেমানান। এতে শুধু আমাদের বিদ্যালয়ের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়নি, আমাদের অভিভাকরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাই তাকে শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে হবে বলেও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

একাধিক অভিভাবকের ভাষ্য মতে, শিক্ষক বকুল যে মেয়েটিকে বিয়ে করেছে সে তার স্কুলেই পড়াশোনা করতো। সেই মেয়েকে ফুঁসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি বিয়ে করার বিষয়টি কোনো অভিভাবকের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতির দাবি তুলেন অভিভাবকরা।

এ ব্যাপারে জানতে শিক্ষক বকুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। হাতীবান্ধা শাহ গরীবুল্লাহ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তবিবর রহমান বলেন, শিক্ষক বকুলের নৈতিক স্খলণে আমরা খুবই বিব্রত। ছাত্রীরা তার ক্লাস করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। অভিভাবকরাও তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে। ফলে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর স্থায়ীভাবে বহিস্কারের জন্য আগামী ০৭ কর্মদিবসের মধ্যে তার ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য