মিয়ানমারের রাখাইনে গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিচ্ছে চীন। মিয়ানমারের এক সিনিয়র কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা সরকারি কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ওও মং বলেন, চীনের সিআইটিআইসি গ্রুপের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামকে পশ্চিম রাখাইনের প্রায় ৭.২ বিলিয়ন ডলারের গভীর সমুদ্রবন্দরটির বড় অংশ গ্রহণের জন্য বলেছিল মিয়ানমার।

দক্ষিণ এশীয় সংবাদমাধ্যম সাউথ এশিয়ান মনিটর জানায়, দেশটিতে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে কিছু কম মালিকানাতেই চীনকে রাজি হতে হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর বিষয়ে ইতোমধ্যে দেশ দুটি একমতও হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে এ ব্যাপারে সমঝোতা হয় বলে জানান ওও মং। তিনি বলেন,অনুমোদনের জন্য মিয়ানমারের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও’র কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আর্র্থিক ব্যাপারে দুই পক্ষ এখনো একমত হতে পারেনি। তিনি বলেন, প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে আরো আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

গত মে মাসে রয়টার্স জানিয়েছিল, চীনের উচ্চাভিলাষী ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সিআইটিআইসি কাইয়ুক ফিউ বন্দরের ৭০-৮৫ ভাগ অংশের মালিকানার প্রস্তাব দিয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় এশিয়া এবং এর বাইরের এলাকার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বেইজিংর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সিআইটিাআইসি এর পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে মিয়ানমারে সংস্থাটির নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ইউয়ান শাওবিন মিয়ানমার টাইমসকে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি ৩০ শতাংশ মালিকানা পাবে। তবে আর্থিক বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার অনলাইন জানায়, চীন বঙ্গোপসাগরের কিয়াক পু সমুদ্রবন্দরের প্রবেশগম্যতা চাইছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনা তেল ও গ্যাস বাণিজ্য সহজ হবে তাদের। রাখাইনের সমুদ্রবন্দরটি দুটি প্রকল্পের একটি। এর মাঝে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক থাকবে যার মাধ্যমে রাখাইনে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য