রাজধানী বেইজিংয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস, শুরু হয়েছে।

বুধবার উপস্থিত দুই হাজারেরও বেশি প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভাষণের মাধ্যমে কংগ্রেস শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

রুদ্ধদ্বার এ সম্মেলনেই ঠিক হবে পরবর্তী মেয়াদে কে চীনের নেতৃত্ব দিবেন এবং দেশটির গতিপথ নির্ধারণ করবেন। প্রতি পাঁচ বছর পর পর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

২০১২ সালে পার্টির নেতা হয়েছিলেন শি। পরবর্তী পাঁচ বছরে তিনি নিজের ক্ষমতা আরো দৃঢ় করেছেন এবং তিনিই পার্টি প্রধান রয়ে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী পাঁচ বছর চীন কোন রোডম্যাপ অনুযায়ী চলবে তাও এ কংগ্রেসে নির্ধারিত হবে, যা আগামী সপ্তাহে শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কংগ্রেস শেষ হওয়ার পর কমিউনিস্ট পার্টি চীনের শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই কমিটিই দেশটি পরিচালনা করবে।

তার মেয়াদে চীনের অর্জনগুলো উল্লেখ করে নিজের ভাষণ শুরু করা শি বলেন, সমাজতন্ত্রের চীনা বৈশিষ্ট্য ‘একটি নতুন অধ্যায়ে’ প্রবেশ করেছে।

‘নিজেদের ভাগ্যকে সবসময় জনগণের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার, জনগণের জন্য উন্নত জীবনের কথা সবসময় মনে রাখতে’ পার্টি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর পাশাপাশি পার্টির ভিতরে তার চালানো ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন শি। তার দুর্নীতিবিরোধী এ অভিযানে দেশটির দশ লাখেরও বেশি কর্মকর্তা শাস্তি পেয়েছেন বলে বিবিসির বেইজিং সংবাদাতা জানিয়েছেন।

কমিউনিস্ট পার্টির এই কংগ্রেস উপলক্ষে স্বাগত জানানো ব্যানার ও উৎসবের আবহ সম্বলিত বিলবোর্ডে বেইজিংকে সাজানো হয়েছে।

পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের প্রথমদিক থেকেই রেল স্টেশন ও পরিবহনের কেন্দ্রগুলোতে শুরু করা অতিরিক্ত তল্লাশির জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

নিরপত্তা কড়াকড়ির কারণে রেস্তোরাঁ, জিম, নাইটক্লাব ও কারাওকি বারগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে হোটেল বুকিংও বাতিল করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই কংগ্রেসে শি পার্টিতে নিজের অবস্থান আরো সংহত করবেন বলে বিশ্বাস অনেক বিশ্লেষকের।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, শি-র ‘কর্ম প্রতিবেদন’ বা রাজনৈতিক চিন্তা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিজেদের সংবিধান নতুন করে লেখার প্রত্যাশা করছে পার্টি। এতে নেতা হিসেবে শি পূর্ববর্তী দিকপাল পার্টি নেতা মাও দেজং এবং দেং শিয়াওপিং এর উচ্চতায় উন্নিত হবেন।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই শি সেন্সরশিপ বৃদ্ধি এবং আইনজীবী ও আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার বৃদ্ধির মাধ্যমে পার্টি ও চীনা সমাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় করেছেন।

তার নেতৃত্বে চীনের আধুনিকায়ন এবং সংস্কার গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চীনের প্রভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে; আর পুরো সময় ধরে সাধারণ চীনা জনগণের বিপুল সমর্থনও পেয়ে এসেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য