সঠিক আইনের প্রয়োগ না থাকায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা এলকায় ৩ ফসলি কৃষি জমিতে ও বন এলাকায় ইট ভাটা স্থাপনের হিড়িক পড়েছে । প্রতি বছরই কোন না কোন জায়গায় একর পর এক ওই সব ভাটা স্থাপন করা হচ্ছে।

প্রশাসনের নাকের ডগার উপরে ওই সব ভাটায় ইট পোড়ানোর মহোৎসব চললেও রহস্য জনক কারনে প্রশাসন নিরব ভ’মিকা পালন করে আসছেন। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ মোতাবেক বছরে একাধিক কৃষি পণ্য উৎপাদন হয় এমন জমি, বন বিভাগের ২ কিঃ মিটার দুরত্বের ভিতরে, গ্রামীন সড়কের অর্ধ কিঃ মিঃ মিটার দুরত্বের ভিতরে ও আবাসিক এলাকায় ইট ভাটা করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও এই উপজেলায় সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে সরকারী বন এলাকার ভিতরে, ফসলী জমির উপরে, রাস্তার ধারে ও আবাসিক এলাকায় ইট ভাটা গুলি স্থাপন করা হয়েছে।

শুধু ভাটা স্থাপনেই শেষ নয় কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে গ্রামীন সড়ক ব্যবহার করে তা ট্রাক্টরে বহন করে ভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদিও সেটি আইন বহির্ভূত। বন বিভাগ দিনাজপুরের চরকাই রেঞ্জের আওতায় নবাবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর বিট এলাকায় সরকারী নীতিমালা ভঙ্গ করে বেশ কয়েকটি ইট ভাটা স্থাপন করা হয়েছে । এরমধ্যে হরিপুর মৌজায় আর এম এ নামে একটি ইটভাটা রয়েছে।

ওই ভাটার মধ্যে দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা। বন বিভাগের হরিপুর বিটের অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রন আইনের অনুসন্ধানী দলের সদস্য নিশি কান্ত মালাকারের সাথে বনের ভিতরে ইট ভাটা স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে জানান। এসব ইট ভাটার কারনে যেমন পরিবেশ দুষন হচ্ছে তেমনি ফল ও ফসলেরও ক্ষতি সাধন হচ্ছে।

গত মৌসুমে ইট ভাটা থেকে নির্গত দোষিত গ্যাসে ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছিল উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের মালারপাড়া গ্রামের প্রায় ৮০ টি পরিবার। তাদের ক্ষতি হওয়া ফলের মধ্যে ছিল আম, কাাঁঠাল, জলপাই, মিষ্টি আমড়া,সুপারী, খেজুর, লিচু ও বোরো ফসল। গ্রাম সংলগ্ন কৃষি জমিতে স্থাপন করা এ বি এম নামে একটি ইট ভাটা থেকে নির্গত দোষিত গ্যাসের কারনে তারা ফল ফসলের ক্ষতির শিকার হয়েছিল।

ওই গ্রামের আঃ রহিম, আঃ গোফ্ফার, বজলুর রশিদ, বুলি বেগম ও মোজাম্মেল হক সহ গ্রামবাসী অনেকেই তাদের ক্ষতির বর্ননা দিয়েছিলেন। সূত্রমতে উপজেলা এলাকায় প্রায় ২০টি ইটভাটা রয়েছে যে গুলি ইট ভাটা স্থাপন ও ইট পোড়ানো(নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ মোতাবেক একটি ভাটাও স্থাপন যোগ্য নয়। সচেতন মহল মন্তব্য করছেন সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ফসলী জমি রক্ষা সহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ভাটাগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ অতীব জরুরী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য