মোঃ আবেদ আলী, বীরগঞ্জ থেকেঃ বীরগঞ্জে প্রশাসনকে চ্যালেন্স করে লাইসেন্স বিহিন ১৭টি অবৈধ ক্লিনিক ও ল্যাবের রমরমা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রান দিতে হচ্ছে প্রসাতি মা ও শিশুদের। বীরগঞ্জ পৌরবাসীর বাধা ও প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভাড়াটে গুন্ডাবাহিনী দ্বারা অবৈধ ক্লিনিক মালিকেরা জোর পূর্বক লাইসেন্স বিহিন ১৭টি অবৈধ ক্লিনিক ও ল্যাবের রমরমা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

বীরগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুর, সুজালপুর, নিজপাড়া, মোহাম্মদপুর, ভোগনগর, সাতোর, মোহনপুর ও মরিচা সমুহের ৯৯টি ওয়ার্ডসহ ১০৮টি ওয়ার্ডে অবৈধ ক্লিনিক ও ল্যাবের মালিকেরা প্রতিটি গর্ভবতী মহিলার বিপরিতে ৫০০/-থেকে ১০০০/- দেওয়ার শর্তে কিছু লোকজনকে লেলিয়ে দিয়ে ভুল বুঝিয়ে তাদের ক্লিনিকে এনে নিজেরাই বা আনারী ডাক্তার বা নার্স দিয়ে অস্ত্রপাচার করে। ফলে মাঝে মধ্যেই প্রসুতি মা-শিশুর মৃত্যু হয়।

প্রসুতি মা ও শিশুর মৃত্যু ঘটনার সুত্র ধরে মাঝে মধ্যে রোগির লোকজন ও স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্লিনিক ভাংচুর চালায়, মহাসড়ক অবরোধ করে ভুল চিকিৎসার জন্য লাশ নিয়ে প্রশাসনের কাছে বিচার দাবী করা হয়। জনতার বিচার দাবীর পৃক্ষিতে একদল মানুষ সালিসে নামে ক্লিনিক মালিকের কাছে মোটা অংকের টাকা আদায় করে শতকরা ২০/২৫ ভাগ টাকা দিয়ে রোগির লোকজনকে দিয়ে বিদায় করে দালাল চক্র সিংহভাগ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ বন্ঠন করে থাকে।

ক্লিনিক ও ল্যাব মালিক সুত্রে জানা গেছে, গর্ভবতী মাকে ক্লিনিকে আনা হলে অহেতুক ভাবে নি¤েœ ৪টি উর্দ্ধে ৮/১০টি ট্রেষ্ট দিয়ে নির্দ্ধারিত ল্যাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রোগিদের টেষ্ট করতে নিন্মে ২০০০/-উর্দ্ধে টাকা ৫/৬হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। টেস্টের শতকরা ৫০% টাকা ডাক্তার দিতে হয়। নিন্মমানের ডাক্তার (সরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নয়) দিয়ে সিজার করা হয়। এসব ডাক্তার অবস (ইনেস্থিয়া) ও অস্ত্রপাচারের উভয়ের বিপরিতে ২০০০/-টাকা থেকে ৩০০০/-টাকা সিজার করার বিপরিতে প্রদান করতে হয়। ডাক্তার অস্ত্রপাচারের পর কোন দায়িত্ব নেয় না বা রোগি দেখে না।

বীরগঞ্জের কোন ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সার্বক্ষনিক ডাক্তার, নার্স বা আয়া নেই। রোগির অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক মালিক বা কর্মচারী নিজেরাই চিকিৎসাপত্র মোতাবেক চিকিৎসা প্রদান করে। রোগির স্বাস্থ্যের উন্নতি না হলে মরনাপন্ন (মুমর্ষ) অবস্থায় দিনাজপুরে রেফাট করা হয়। রোগির লোকেরো রোগি নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যায়, অথবা মেডিকেলে চিকিৎসা শুরু করতেই প্রসুতি বা শিশু মার যায়। মরদেহ এলাকায় পৌছার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রোগির লোকজনের আর্তনাদে শতশত উৎসুক জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্লিনিক ভাংচুর করে। উত্তেজিত জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে ভুল চিকিৎসার জন্য মৃত্যু ঘটনার বিচার দাবী করা হয়। পরে এক শ্রেণীর দালাল চক্র সালিস-মিমাংসার নামে দফায় দফায় বৈঠক বসিয়ে ক্লিনিক মালিকের কাছে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে শতকরা ২০/২৫ ভাগ টাকা দিয়ে রোগির লোকজনকে দিয়ে বিদায় করে। দালাল চক্র নিজেদের মধ্যে সিংহভাগ টাকা ভাগ বন্ঠন করে নেয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আলম হোসেন সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অবৈধ ক্লিনিক ও ল্যাব মালিকেরা প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করেছে। ইতিমধ্যে সিটি নার্সিং হোম ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মালিক ও কর্মচারীদের ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ও পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতাল মালিককের ৫০ হাজার টাকা সহ মোট ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড আদায় করেছেন। অর্থ দন্ড পরিশোধের পরে লাইসেন্স সহ অন্যান্য শর্তাবলী পুরণ না হওয়া পর্যন্ত ঐসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত একাধিকবার নবজাতক (সিজারিয়ান) এবং প্রসুতি মহিলা ও শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য