তেঁতুলিয়ার মেধাবী ছাত্রী রহিমা আকতার সোনিয়ার লাশ পুনঃময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলণ। আদালতে আসামীদের ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর।

গতকাল সকাল সোয়া ১০ ঘটিকায় বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহরাব হোসেন এর উপস্থিতিতে সোনিয়ার মৃত দেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনঃময়না তদন্তের জন্য পুলিশ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান। গত ১৬ অক্টোবর/১৭ দুপুরে পঞ্চগড় বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত তেঁতুলিয়া-৪ এ ধর্ষক রাজন ও আতিক আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু বিজ্ঞ বিচারক জাহাঙ্গীর আলম আসামীদের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠার নির্দেশ দেন।

এ সময় পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোনিয়ার লাশ কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়না তদন্তের আদেশ দেন। এরপর থেকে সোনিয়ার কবরকে ঘিরে পুলিশের নজদারী সহ রাতে চৌকিদার প্রহরায় রাখা হয়। এদিকে সোনিয়ার লাশ কবর থেকে উত্তোলণের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে উৎসুক জনতা এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন। উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে পুলিশকে রীতিমত হিমসীম খেতে হয়।

সোনিয়ার লাশ উত্তোলন শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.সোহরাব হোসেন সাংবাদিকদের জানান- বাদীর এজাহারের বিবরণ ও পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশক্রমে সোনিয়ার লাশ পুনঃ ময়নাতদন্তের জন্য তোলা হয়। এ সময় মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া, তেঁতুলিয়া মডেল থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ সরেস চন্দ্র, তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজী আনিছুর রহমান, তিরনইহাট ইউ’পি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম সহ নিহতের পরিবাববর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে তেঁতুলিয়া থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাংগীর আলম এর আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য যে, কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী রহিমা আকতার সোনিয়া (১৪) গত ১০ অক্টোবর/১৭ ধর্ষকদের ব্লাক মেইল করা ধর্ষণের ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করে পুনরায় ধর্ষণের অপচেষ্টা করেন। সোনিয়া দু’ধর্ষকের অব্যাহত প্ররোচনায় অতিষ্ঠ হয়ে নিজ বাড়িতে শয়ন ঘরের ধরনার সংগে উড়না পেছিয়ে ফাঁস লাগায়ে আত্মহত্যা করেন।

ওই ঘটনায় সোনিয়ার মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে ধর্ষক রাজন ও আতিককে আসামি করে তেঁতুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মামলা রেকর্ড করতে তালবাহানা করে ঘটনার ৫দিন পর নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করেন। পুলিশের গড়িমসির কারণে তেঁতুলিয়ার সর্বস্তরের জনসাধারণ গত ১৫ অক্টোবর/১৭ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করে সোনিয়াকে ধর্ষক ও হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবী করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য